প্রাথমিকে ১৩,৪২১টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ (Primary Teacher Recruitment) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নয়া আইনি জট তৈরি হল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ২০১৭ ও ২০২২ সালের টেট অনুত্তীর্ণ (TET Unsuccessful Candidates) পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, মাত্র ১ বা ২ নম্বরের জন্য তাঁরা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাই তাঁদেরও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া উচিত।
মামলার প্রেক্ষাপট
প্রাথমিকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE)। পুজো পর্ব শেষে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় নিজেদের অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়ে পুজোর অবকাশকালীন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন টেট অনুত্তীর্ণরা। তাঁদের যুক্তি, আগের বছরের টেট ফলাফল নিয়ে যে মামলা এখনও বিচারাধীন, সেই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নিয়োগে বাদ দেওয়া অন্যায়।
ভুল প্রশ্ন নিয়ে মামলা এখনো বিচারাধীন
মামলাকারীদের বক্তব্য, ২০১৭ ও ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় মোট ৪৭টি প্রশ্নের উত্তর ভুল নিয়ে আগেই মামলা দায়ের হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্সি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। জুলাই মাসে সেই কমিটিকে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু এখনও সেই রিপোর্ট জমা পড়েনি, যার ফলে এই বছরের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে তাঁরা অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।
মামলাকারীদের দাবি ও আদালতের ভূমিকা
মামলাকারীরা আদালতে জানিয়েছেন, পর্ষদ যদি নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা না দেয়, তবে দোষ তাঁদের নয়। তাঁদের যুক্তি, প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে চাকরিপ্রার্থীরা সুযোগ হারাবেন কেন? তাই হয় তাঁদেরও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হোক, নয়তো আদালত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখুক।
অপেক্ষা ৯ অক্টোবরের শুনানির
এই মামলার শুনানি হবে আগামী ৯ অক্টোবর। আইনি মহলের মতে, আদালতের রায় এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ তা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর ওপর। যদি আদালত টেট অনুত্তীর্ণদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আসবে।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অবস্থান
পর্ষদের তরফে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সূত্রের খবর, পর্ষদ আইনি পরামর্শ নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এই মুহূর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সারসংক্ষেপে
টেট অনুত্তীর্ণদের এই মামলা নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, এবং প্রশাসনিক বিলম্ব—দুটির যোগফলে তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। এখন সবার দৃষ্টি আদালতের ৯ অক্টোবরের শুনানির দিকে, যা হয়তো ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতিপথ নির্ধারণ করবে।



