৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি বাঁচবে নাকি বাতিল? আগামীকাল রায় দেবে কলকাতা হাই কোর্ট

বুধবার দুপুরে রায় দেবে কলকাতা হাইকোর্ট; ২০১৬ সালের প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শেষ পর্বে উদ্বেগে ৩২ হাজার শিক্ষক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আগামীকাল প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলার রায় ঘোষণা করতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের অন্যতম বহুচর্চিত এই নিয়োগ–বিতর্ক এখন শেষ পর্যায়ে, আর তাই স্বভাবতই উৎকণ্ঠায় রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক–শিক্ষিকা। বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, দুপুর ২টোর সময় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় রায় দেবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রায় ৪২,৫০০ জনকে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। অভিযোগ ছিল—নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, নম্বর ঘষামাজা ও বেআইনি সুপারিশের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন হয়েছে। মামলা ওঠে কলকাতা হাইকোর্টে, আর সেই মামলাতেই ২০২৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন।

৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি বাঁচবে নাকি বাতিল? আগামীকাল রায় দেবে কলকাতা হাই কোর্ট

রায়ের পরপরই শিক্ষক সমাজে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই বলেন—এই রায়ের ফলে তাঁদের জীবিকার ভবিষ্যৎ ঝুলে গেল। তবে পর্ষদ ও রাজ্য সরকার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। পাশাপাশি জানায়—অভিযুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতেই হবে।
(অবশ্যই পড়ুন: ৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি বাঁচতে পারে কোন যুক্তিতে? হাই কোর্টে সওয়াল জবাবের বিশ্লেষণ)

এই রায়ের পর মামলাটি যায় সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—ডিভিশন বেঞ্চকে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে রায়ের দিকে এগোতে হবে। সেই অনুযায়ী মামলা ফেরত আসে হাইকোর্টে। এরপর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বেঞ্চে শুরু হয় নতুন শুনানি।

৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি বাঁচবে নাকি বাতিল? আগামীকাল রায় দেবে কলকাতা হাই কোর্ট
৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি বাঁচবে নাকি বাতিল? আগামীকাল রায় দেবে কলকাতা হাই কোর্ট

গত ১২ নভেম্বর দীর্ঘ শুনানি শেষ হয়। আদালত রায় সংরক্ষিত রাখে। তারপর থেকেই প্রশ্ন—৩২ হাজার চাকরি কি সত্যিই বাতিল হবে? নাকি থাকবে স্থগিতাদেশ, আবারও চাকরি বজায় থাকবে?

মামলাকারী পক্ষের দাবি—এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছিল সুস্পষ্টভাবে। মেধা–তালিকায় নম্বর বেনিয়ম, অবৈধ স্ক্রুটিনি, টেট–পাস না করেও নিয়োগ—এমন নানান অভিযোগ আদালতে পেশ করা হয়। তাঁদের মতে, চাকরি বাতিলের রায় বহাল থাকাই উচিত।

অন্যদিকে, পর্ষদ ও রাজ্যের বক্তব্য—কিছু অনিয়ম থাকলেও তা সংশোধন করা হয়েছে, এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাতিল করা চরম অন্যায়। যাঁরা বহুদিন ধরে স্কুলে শিক্ষকতা করছেন তাঁদের জীবিকা ও শিক্ষাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা দুটোই এতে বিপন্ন হবে।

এদিকে, শিক্ষক মহলের মনোভাব সম্পূর্ণ বিভক্ত। কেউ কেউ মনে করছেন—রায় বহাল থাকলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা শেষ হবে এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। কিন্তু বড় অংশ উদ্বেগে—চাকরি বাতিল হলে হাজার হাজার পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসবে।

বুধবারের রায় শুধু প্রাথমিক নিয়োগ ক্ষেত্রেই নয়, গোটা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামীকাল দুপুর ২টোর পরেই জানা যাবে—৩২০০০ চাকরি বাঁচবে নাকি বাতিল হবে, আর বহুল আলোচিত অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় টিকে থাকবে কিনা।

রাজ্যের শিক্ষাজগৎ, রাজনৈতিক মহল এবং প্রাথমিক শিক্ষক–শিক্ষিকারা এখন শুধু তাকিয়ে আছেন কলকাতা হাইকোর্টের দিকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত