আরজি কর কাণ্ডে তোলপাড় গোটা দেশ। বিচার চেয়ে পথে নেমেছে সাধারন মানুষ। এদিকে বাঙালীর উৎসব শুরু হতে আর একমাসও বাকি নেই। আর পুজো শুরুর এই আগের দিন গুলিতে আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়ায় পুজোর গান। কিন্তু এবছর প্রাক পুজোর সময়টা একেবারে অন্যরকম। আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে একটাই স্বর ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’। অর্থাৎ চারিদিকে মানুষের দাবি বিচার চায় আর বিচার চায়। কি হল এই বাংলায়? এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে বার বার আহ্বান জানানো হচ্ছে উৎসবে ফেরার। যা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। এবার আরও একবার মুখ্যমন্ত্রীর গলায় উৎসবের সুর। ৯ ই অক্টোবর ষষ্ঠী অর্থাৎ দেবীর বোধন। অন্যদিকে ১৫ই অক্টোবর কলকাতায় পালিত হবে দুর্গা পুজোর কার্নিভাল। জার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দশে কার্নিভাল সম্প্রচারনের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট পরিষেবার জন্যও দরপত্র চাওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। যেখানে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে ষষ্ঠীর আগেই এই কার্নিভালের প্রস্তুতি সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ শেষ করতে হবে। এমনকি এই কার্নিভালে যে ভিভিআইপি-রাও উপস্থিত থাকবেন, সেই নির্দেশনামাও জারি করা হয়েছে। আর তাই সেই মত জোরকদমে শুরু হয়েছে প্রস্তুতিও। রেড রোডের সমস্ত বড় গাছের দাল কাতা শুরু হয়েছে। আলো থেকে শুরু করে মণ্ডপ সবের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।
গত জুলাই মাসে কেন্দ্রে বাজেট ঘোষণার দিনেই সল্টলেকে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠকে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই পুজোর অনুদান ঘোষণা করলেন তিনি। এবার প্রতিটি ক্লাবকে ৮৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেবে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় অনুদানের পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বছর থেকে এই অনুদান হয়ে যাবে ১ লক্ষ টাকা করে, সেটাও জানিয়ে দিলেন তিনি। এর পাশাপাশি রেড রোডে পুজোর কার্নিভালের দিনক্ষণও এদিন জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরজি কর আবহে আবার পুজোয় ফেরার আহ্বান, কার্নিভাল নিয়ে শুরু প্রস্তুতি
৯ই আগস্ট আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে দিকে দিকে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। বিচার চেয়ে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট জনেরা। একাধিক বার মানুষ বিচারের দাবিতে নিয়েছে একাধিক রাতের দখল। যা পুজো ছাড়া এত মানুষকে একসাথে রাস্তায় নামতে দেখেনি শহর কলকাতা। দাবি একটাই আরজি কর কাণ্ডে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিয়ে যোগ্য বিচার। সাধারণ মানুষের দাবি যেই বাংলায় মহিলারা সুরক্ষিত নয় সেই বাংলায় উৎসব নিয়ে কি মাতামাতি করা সাজে। এই আবহে তাই প্রতিবাদ জানিয়ে পুজোর অনুদান ফিরিয়ে দিয়েছে অনেক পুজো কমিটি।



