জুনিয়র চিকিৎসকদের পর এবার বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে অশান্ত সল্টলেক করুণাময়ী। সোমবার আপার প্রাইমারির চাকরি প্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখান করুণাময়ীতে। এসএসসি ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেন তাঁরা। এর আগে বহুবার, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা চাকরির দাবীতে করুণাময়ী-সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন। এদিল কয়েকশো চাকরিপ্রার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তবে বিক্ষোভের ছবিটা একই হলেও পুলিশের ভূমিকা ছিল আলাদা।
এদিন নিয়োগের দাবিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিলেন ২০১৬ সালের টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। প্রশ্ন একটাই, কবে মিলবে নিয়োগ। যদিও চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভকে এদিক একটুও বাড়তে সুযোগ দেয়নি পুলিশ। যতদিন জুনিয়ার ডাক্তার বিক্ষোভ করছিলেন ততদিন পুলিশ ছিল শান্ত, পাশাপশি চিকিৎসকদের জন্যে একাধিক সুবিধার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ। এমনকি ব্যারিকেড পর্যন্ত সরিয়ে দিয়েছিল। তবে এদিন সম্পূর্ণ অন্য চিত্র। জুনিয়ার ডাক্তারদের জন্য ব্যারিকেড সরান পুলিশ এদিন ঘাড়ধাক্কা দিল বহু শিক্ষককে!
এদিন স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিসের কিছুটা আগেই বিক্ষোভরত চাকরিপ্রার্থীদের আটকে দেয় পুলিশ। তার জেরেই রীতিমতো চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে হাতাহাতি লেগে যায় তাঁদের। নিজেদের নিয়োগের দাবিতে সল্টলেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিসের সামনেই বসে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। যদিও পুলিশের তরফে বারবার বলা হয় সরে যেতে তবে টাতে লাভ কিছুই হয়নি।
দিনের পর দিন ধরে জুনিয়র ডাক্তাররা স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে পুলিশ তাদের জোর করে সরিয়ে দেয়নি। উলটে নিজেরাই ব্যারিকেড সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ হল অন্য দাওয়াই। হবু শিক্ষকদের এসএসসি ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পুলিশ তাদের টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেয়। দেওয়া হয় ঘাড়ধাক্কাও।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, গত অগস্ট মাসে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরও আপার প্রাইমারির ১৪ হাজার ৫২ জন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ করেনি রাজ্য। কবে তাঁদের নিয়োগ করা হবে এই দাবিতেই আজ দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেই মিছিলেই ঘাড়ধাক্কা খেতে হয় তাঁদের।



