পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়তেই দেশবাসীর উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। জ্বালানির ব্যবহার কমাতে এবার স্কুলগুলিকে অনলাইন ক্লাস চালুর কথা ভাবার আবেদন জানালেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম সংস্কৃতির উপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কোভিড পর্বে যেভাবে দেশ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতি সামলেছিল, এবারও সেই পথেই এগোনোর ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র।
সোমবার গুজরাতের ভাদোদরায় সর্দারধাম হস্টেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বার্তা দেন মোদি। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উপর চাপ বাড়ছে বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
ফের অনলাইন ক্লাসের পরামর্শ
কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষা গোটা বিশ্বেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি কিছু স্কুলকে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করার জন্যও আহ্বান জানাব।”
শুধু শিক্ষা ক্ষেত্র নয়, অফিস সংস্কৃতিতেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে যতটা সম্ভব ভার্চুয়াল মিটিং এবং দূর থেকে কাজের পদ্ধতি গ্রহণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘কোভিডের মতো এই সঙ্কটও কাটিয়ে উঠব’
মোদির কথায়, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এই দশকের অন্যতম বড় সঙ্কট। তবে কোভিড-১৯ মহামারির মতোই ভারত এই পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে পারবে বলে আশাবাদী তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যেভাবে কোভিড-১৯ মহামারি কাটিয়ে উঠেছি, এ থেকেও বেরিয়ে আসব।”
একইসঙ্গে দেশের সম্পদের উপর চাপ কমাতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
আমদানির চাপ কমানোর বার্তা
মোদির বক্তব্যে উঠে আসে জ্বালানি আমদানি এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ভারত বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, যার জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে আমদানিকৃত পণ্যের দামও বেড়েছে এবং বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ছোট ছোট উদ্যোগও বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যেমন এক ফোঁটা জলে কলসি ভরে, তেমনই প্রতিটি ছোট-বড় প্রচেষ্টাই গুরুত্বপূর্ণ।”



