ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, বললেন ‘এক যুগের অবসান’

ভিলে পার্লে শ্মশানে তারকাদের উপস্থিতিতে জল্পনা তুঙ্গে। হিম্যান ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোক জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে জল্পনার ঘূর্ণিতে আবারও উত্তাল বলিউড। মাত্র তেরো দিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল মৃত্যুর ভুয়ো খবর। পরিবারের পক্ষ থেকে সেই দাবি নস্যাৎ করে কিংবদন্তি অভিনেতাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু সোমবার দুপুরে পরিস্থিতি বদলে যায়। ভিলে পার্লে শ্মশানে হঠাৎই উপস্থিত হন হেমা মালিনি, সানি দেওল, ববি দেওল, অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, সলমন খানসহ বলিউডের প্রথম সারির তারকারা। মুহূর্তেই প্রশ্ন জাগে—তবে কি সত্যিই প্রয়াত হলেন হিম্যান?

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মোদিরঃ
এই আবহেই সামনে আসে সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া—প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, “ভারতীয় সিনেমার একটি যুগের অবসান। ধর্মেন্দ্র ছিলেন একজন আইকনিক শিল্পী। প্রতিটি চরিত্রে তিনি প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কোটি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন তিনি।”
মোদির এই বার্তার পর বলিউড এবং ভক্তদের মধ্যে জল্পনা আরও পোক্ত হয়েছে—প্রয়াণের খবর আর গুজব নয়, এবার সত্যিই শেষ অধ্যায়ে পৌঁছেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, বললেন ‘এক যুগের অবসান’

ভিলে পার্লে শ্মশানে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান দেওল পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। কিন্তু এত বড় তারকাদের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা একটাই দিক নির্দেশ করছে—বলিউড হারাল তার এক সোনালি অধ্যায়ের নায়ককে।

ধর্মেন্দ্রর ভক্তরা স্মরণ করছেন তাঁর কিংবদন্তি চরিত্র—‘শোলে’-র বীরু, ‘ধরম-ভীর’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘আনন্দ’, ‘চুপকে চুপকে’—যেখানে তিনি যেমন হাসিয়েছেন, তেমনই মন ভেঙেছেন আবেগে। ৬০ বছরের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধর্মেন্দ্র ছিল ভারতীয় সিনেমার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম।

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, বললেন ‘এক যুগের অবসান’
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, বললেন ‘এক যুগের অবসান’

গত কয়েক মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন অভিনেতা। ১০ নভেম্বর তাঁকে ভর্তি করা হয় ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালেই ছিলেন। কয়েকদিন ধরে তাঁর পরিস্থিতি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। আবারও ভুয়ো খবর ছড়ানো হবে কি না, সেই আশঙ্কায় পরিবার পুরো বিষয়টি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সূত্রের দাবি।

কিন্তু সোমবার দুপুরে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। শ্মশানে অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকার ভিডিও ভাইরাল হওয়া মাত্রই দানা বাঁধে জল্পনা। এরপর পরপর পৌঁছতে থাকেন বলিউড তারকারা।
এমন পরিস্থিতিতে মোদির বিবৃতি যেন সব সন্দেহের অবসান ঘটিয়েছে।

মোদির শোকবার্তায় উল্লেখ ছিল—
“ধর্মেন্দ্র ছিলেন এমন একজন শিল্পী যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আনন্দ দিয়েছেন। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর সরলতা—সবকিছুই তাঁকে অমর করে রেখেছে। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”

এতকিছুর পরও অফিসিয়ালি কিছু জানায়নি চিকিৎসক বা পরিবার। তবে বলিউডের প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে— ভারতীয় সিনেমার আকাশে একটি উজ্জ্বল তারার অস্ত সত্যিই ঘটেছে।

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণ বলিউডের শুধু একটি অধ্যায়েরই সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের পরিসমাপ্তি। তাঁর মতো ক্যারিশমা, সরলতা ও বহুমুখী প্রতিভার অভিনেতা আর পাওয়া দুষ্কর।
হিম্যানের শেষ যাত্রা ঘিরে বলিউড শোকাহত, দেশ এক কিংবদন্তির বিদায়ে স্তব্ধ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত