রাজ্যে স্নাতকোত্তর ভর্তি অনলাইনে শুরু হতে চলেছে ৮ অগস্ট থেকে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০ অগস্ট, আর ক্লাস শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এ বছর ভর্তি পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে একাধিক নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষায় বিলম্বের কারণে গতবার বহু পড়ুয়া সমস্যায় পড়েছিলেন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আসন পূরণ করতে শেষ পর্যন্ত কাউন্সেলিং চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। ফলস্বরূপ, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ শুরু হতেও সময় লেগেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়েছে দফতর। এ বছর স্নাতকোত্তর ভর্তি অনলাইনে করতেই জোর দেওয়া হয়েছে যাতে সমস্যা না হয়।


প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, সমস্ত ভর্তি হবে শুধুমাত্র মেধা তালিকার ভিত্তিতে। কোনও প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াকে সরাসরি ক্যাম্পাসে ডেকে আনতে পারবে না ভর্তি সংক্রান্ত কারণে। ভর্তি প্রক্রিয়া হবে ১০০% অনলাইন। আবেদন, নথি জমা, এমনকি কোর্স সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ—সবই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।
দ্বিতীয়ত, কোনও রকম ফি বা অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের থেকে দাবি করা যাবে না শুধুমাত্র নথি যাচাই বা আবেদন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য। শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণও দিতে হবে অনলাইনে। ক্যাম্পাসে গিয়ে ফর্ম ভেরিফিকেশন বা নথি প্রদর্শনের দরকার নেই।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ই-মেল বা ফোনের মাধ্যমে মেধাতালিকায় থাকা প্রার্থীদের ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য জানাবে। এর ফলে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। শিক্ষার্থীদের আবেদনমূল্য কিংবা কোর্স ফি শুধুমাত্র অনলাইনেই জমা দিতে হবে।


এই নতুন নিয়মগুলি শুধু সাধারণ স্নাতকোত্তর কোর্সে প্রযোজ্য। ব্যতিক্রম রয়েছে B.Ed, M.Ed, B.P.Ed এবং M.P.Ed কোর্সগুলিতে। এই ক্ষেত্রগুলিতে ভর্তি সংক্রান্ত আলাদা শর্তাবলি পরে জানাবে উচ্চ শিক্ষা দফতর।
স্নাতকোত্তর ভর্তি অনলাইনে ব্যবস্থা চালুর ফলে একদিকে যেমন ভর্তির স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, তেমনই ক্যাম্পাসে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও হয়রানি কমবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়ি থেকেই আবেদনপত্র জমা দিতে পারবে, প্রাপ্তি স্বীকার করতে পারবে এবং মেধা তালিকায় স্থান পেলে ভর্তি হতে পারবে।
রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘‘এই পদক্ষেপ শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াবে না, বরং ভর্তি সংক্রান্ত দীর্ঘ দিনের অস্বচ্ছতা দূর করবে।’’ অনেক সময় দেখা যায়, ক্যাম্পাসে গিয়ে ভর্তি সংক্রান্ত নথি জমা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্যা এড়াতেই এবার এই সিদ্ধান্ত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, স্নাতকোত্তর ভর্তি অনলাইনে প্রক্রিয়া এক দিকে যেমন সময় বাঁচাবে, তেমনই দূরবর্তী জেলার শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি হবে বড় স্বস্তির বিষয়। অনেকেই কেবলমাত্র ভর্তির জন্য শহরে এসে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হন।
সঠিক নীতিমালা অনুসরণ করে ভর্তি পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে শিক্ষাবর্ষ শুরু ও শেষ করার সময়সীমা নিয়েও আর কোনো সমস্যা থাকবে না। শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সুবিধা হবে। এই ডিজিটাল রূপান্তর শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পদক্ষেপ। আগামীতে আরও বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠবে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা পরিকাঠামো। স্নাতকোত্তর ভর্তি অনলাইনে হবে, এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার কাছে স্বস্তির খবর।









