পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) আবাস যোজনা (Awas Yojana) নিয়ে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। অবৈধভাবে সরকারি আবাস প্রকল্পের টাকা পাওয়া উপভোক্তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানালেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) ঘোষণা করা হয়েছে, আরও ১৮ লক্ষ ৬৬ হাজার যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ১০ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার পেয়েছে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময় আবাস যোজনার তালিকায় প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই তালিকার ভিত্তিতে পুনরায় সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, তালিকাভুক্তদের মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা দুই কিস্তির অর্থ পেয়েছিলেন, আর বাকি আবেদনকারীদের ধাপে ধাপে অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ৮ লক্ষ যোগ্য আবেদনকারীকেও পর্যায়ক্রমে অর্থ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
একইসঙ্গে আবাস যোজনায় অনিয়মের বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। দিলীপ ঘোষের দাবি, সমীক্ষায় ১২ হাজার ৫০০ জন এমন উপভোক্তার নাম চিহ্নিত হয়েছে, যাঁরা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে আবাস যোজনার টাকা পেলেও প্রকৃতপক্ষে সেই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। তাঁদের ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়ে সরকারি অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার জনের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫৭ হাজার জন আবাস যোজনার অর্থ পেয়েছেন। সরকারি দাবি, তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন এবং তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আবাস যোজনাকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০১৪ সালের আগে কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্য আবাস প্রকল্পের জন্য ৪,৬৬৪ কোটি টাকা পেয়েছিল। এরপর ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ৪০ লক্ষ বাড়ি নির্মাণের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান নির্মাণ ব্যয়ের নিরিখে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে সম্পূর্ণ বাড়ি তৈরি করা কঠিন। তাই উপভোক্তাদেরও কিছু অংশ নিজস্বভাবে ব্যয় করতে হতে পারে। তবে বাড়ি নির্মাণ শেষ হলে স্বচ্ছ ভারত (Swachh Bharat Mission) প্রকল্পের আওতায় শৌচাগার নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের আবাস প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা’ (Paschim Banga Awas Yojana) রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর পর আরও নতুন উপভোক্তার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সরকারের দাবি, এদিন আবাস প্রকল্পে মোট প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।



