নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও জটিলতা বাড়ল! পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য রাজসাক্ষী হিসেবে গোপন জবানবন্দি দিলেন আদালতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর এই স্বীকারোক্তি পার্থর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
গোপন জবানবন্দির সিদ্ধান্ত কেন নিলেন কল্যাণময়?
কিছুদিন আগেই কল্যাণময় ভট্টাচার্য নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, যা ইডির বিশেষ আদালত মঞ্জুর করে। এরপর বিচারক নির্দেশ দেন, কল্যাণময়কে নগর ও দায়রা আদালতের ২০ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দিতে হবে। নির্দেশ মোতাবেক মঙ্গলবার সেই জবানবন্দি দিলেন তিনি।
ইডির দাবি: পার্থর নির্দেশেই দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন জামাই!
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুধু নিজেই জড়িত ছিলেন না, বরং নিজের স্ত্রী, মেয়ে এবং জামাইকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন।
- পিংলার একটি বেসরকারি স্কুলের সূত্র ধরে পার্থর মেয়ে-জামাইয়ের নাম উঠে আসে ইডির সন্দেহের তালিকায়।
- তাঁদের নামে একাধিক সংস্থার খোঁজ মেলে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসেই কল্যাণময় এসব সংস্থা ও ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- পার্থর স্ত্রীর নামে তৈরি একাধিক ট্রাস্টের মাধ্যমে কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় প্রচুর জমি কেনা হয়েছিল।
কল্যাণময়ের বক্তব্য: বাধ্য হয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়েছি!
জেরার মুখে কল্যাণময় স্বীকার করেছেন, পার্থর নির্দেশ মেনেই তিনি দুর্নীতিতে যুক্ত হন।
এই মামলায় বিচারপর্ব শুরু হওয়ার পর কল্যাণময়ের বিদেশযাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বর্তমানে আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি কলকাতা ছাড়তে পারবেন না। তবে গোপন জবানবন্দি দেওয়ার পর তিনি বিদেশযাত্রার অনুমতি চাইতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পার্থর বিরুদ্ধে আরও সাক্ষ্যদান আসছে!
আগামী ২৬ ও ৩১ মার্চ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও দু’জন সাক্ষী দিতে পারেন বলে জানা গেছে। ফলে মামলার মোড় কোনদিকে ঘুরবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চর্চা।
এই নতুন মোড় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা সময়ই বলবে। তবে ইডির দাবি অনুযায়ী, মামলার গতিপ্রকৃতি এখন আরও কঠিন হতে চলেছে।



