নজরবন্দি ব্যুরোঃ টালিগঞ্জের পর বেলঘড়িয়া। বুধবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ফের কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হতেই তৃণমূলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গতকালই তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, গোটা বিষয় ল্টি উদ্বেগের। কোনও ভাবেই বিষয়টিকে ডিফেন্ড করবেন না। বৃহস্পতিবার সকালেই আরও বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ। সরাসরি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রীপদ থেকে অপসারণের দাবীতে সরব হলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ উদ্ধার হওয়া ৫০ কোটি টাকা পার্থর, জড়িয়ে অনেক প্রভাবশালী, রাজসাক্ষী হতে চান অর্পিতা।
ট্যুইট করে কুণাল জানিয়েছেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রীপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। সেইসঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হোক দলীয় পদ থেকে। কেউ যদি মনে করেন আমি ভুল কথা বলছি, তাহলে দলের অধিকার রয়েছে আমাকে সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার।

উল্লেখ্য, শুক্রবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি৷ ওই দিন অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ২১ কোটির অধিক টাকা, সোনার গয়না, বিদেশী মুদ্রা সহ একাধিক নথি। গতকাল অর্পিতা বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাটে উদ্ধার হয় ৩০ কোটির অধিক নগদ টাকা, সোনার বার, গয়না। যা দেখে গতকালই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন তৃণমূল মুখপাত্র।
তাঁর কথায়, একটা প্রক্রিয়ার মাঝপথে আমরা আছি, যা দেখছি তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক একটি ছবি। এটা কখনই কাম্য ছিল না। এটাকে কোনওমতে কোনও অবস্থায় ডিফেন্ড করার চেষ্টা আমি করব না। তদন্ত চলুক। কার টাকা, কীভাবে টাকা নিশ্চয়ই এজেন্সি কোর্টে সেটা তুলে ধরবে।
ধৃত পার্থকে এক্ষুনি মন্ত্রীসভা ও দল থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত, বিস্ফোরক কুণাল

তাঁর বার্তা, আমরা দোষীকে আড়াল করার চেষ্টা করব না। এত টাকা কে রাখল, কারা রাখল, কী ভাবে রাখল, তা তদন্ত করে তাদের সম্পর্কে ইডি ন্যূনতম তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করলে দল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। তাঁর কথায়, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখছে। দল যথা সময়ে তার বক্তব্য জানিয়ে দেবে। উল্লেখ্য, আজই মন্ত্রীসভার বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই পার্থকে নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দলের কাছেই কুণালের দাবিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে৷



