তৃণমূলের সংবিধানের কোন ধারায় সাসপেন্ড? বাড়ি ফিরে মমতাকে চিঠি দিলেন পার্থ

বাড়ি ফিরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠালেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। চিঠির প্রতিলিপি গিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীর কাছেও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহাসচিব এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি ফিরে তিনি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে প্রশ্ন তুলেছেন—দলীয় সংবিধানের কোন ধারায় তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে?

জানা গিয়েছে, ওই চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছেও। চিঠিতে পার্থ লিখেছেন, “বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি যে দল আমাকে সাসপেন্ড করেছে। কিন্তু দলীয় সংবিধানের কোন ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?”

চিঠিতে পার্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নব্য সেনাপতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত আরও অনেক নেতা থাকলেও, তাঁদের পাশে দল একাধিকবার দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে।

পার্থের ঘনিষ্ঠদের একাংশের দাবি, জেলবন্দি অবস্থাতেই চিঠিটি লেখা হয়েছিল। বাড়ি ফেরার পর তিনি সেটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে পাঠান। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে, ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি চিঠিটি লেখেন, যা তাঁর মুক্তির পর প্রকাশ্যে আসে।

২০২২ সালের ২৩ জুলাই ইডি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে। সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। অর্পিতার টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৫০ কোটি টাকা নগদ। এই ঘটনার পর থেকেই পার্থকে মন্ত্রিত্ব এবং দলের সমস্ত পদ থেকে সরানোর দাবি ওঠে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায় দল থেকে সাসপেন্ড থাকবেন। অভিষেক সে সময় বলেন, “তিনি যদি আইনের চোখে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, দল তখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।”

এখনও বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “আমি বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে নির্দল বিধায়ক হিসেবে যোগ দিতে চাই।” তাঁর কথায়, “আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যারা আমাকে পাঁচবার নির্বাচনে জিতিয়েছেন, তাঁদের কাছেই আমি বিচার চাইব।”

রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, পার্থের এই চিঠি শুধুই স্পষ্টীকরণ নয়—বরং দলের ভেতরের অস্বস্তি প্রকাশের ইঙ্গিত। অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত হতে পারে।

তৃণমূলের একাংশের মতে, দল এখনও পার্থের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দীর্ঘদিন পর তাঁর এই প্রশ্নমূলক চিঠি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তৃণমূলের সংবিধান অনুযায়ী সাসপেনশনের কারণ জানতে চেয়ে মমতাকে পার্থের সরাসরি প্রশ্ন কেবল তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতই নয়, দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা টানাপড়েনেরও প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন