পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় আপডেট এল সুপ্রিম কোর্ট থেকে। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন আবেদন শুনানি বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে ওঠে। কিন্তু বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সেই মামলাটি শুনতে অস্বীকার করায় বেঞ্চ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। বিচারপতি কান্ত জানান, সহ-বিচারপতি বাগচী শুনানিতে রাজি নন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বিচারপতি যদি নির্দিষ্ট মামলা শুনতে অস্বীকার করেন, তাহলে তা নতুন বেঞ্চে স্থানান্তরিত হয়।
নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মামলা, বিরাট আপডেট সুপ্রিম কোর্ট থেকে…

আইনজীবীদের মতে, কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি করেছিলেন বিচারপতি বাগচী। তাই সুপ্রিম কোর্টে একই মামলায় তাঁকে শুনতে হলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতে পারত। সেই কারণেই তিনি শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রথমে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। এরপর হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেন তিনি, তবে তা খারিজ হয়। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। বৃহস্পতিবার শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বেঞ্চ পরিবর্তনের কারণে তা পিছিয়ে গেল।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতা হাই কোর্টে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছিল। এক সাক্ষী আদালতে পেন দিয়ে কিছু লিখতে শুরু করলে বিচারক তাঁকে হাত ধুয়ে আসতে বলেন। মামলাটিতে একাধিক ভুয়ো সংস্থার হদিস পাওয়া গেছে, যা ইডি-র দাবি অনুযায়ী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত।
ইডির চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, এই ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অর্থ তছরুপ হয়েছে। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য ইডির চার্জশিটে নাম থাকলেও তিনি রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেছেন। এর বিনিময়ে চার্জশিটের অভিযোগ থেকে মুক্তির অনুরোধও জানিয়েছেন।
এখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন আবেদনের শুনানি নতুন বেঞ্চে হবে। কবে শুনানি হবে তা সুপ্রিম কোর্ট শীঘ্রই জানাবে। মামলার জটিলতা এবং পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা এড়াতে বিচারপতি বাগচীর এই সিদ্ধান্তকে আইনজীবী মহল স্বাগত জানিয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত মামলার গতি কিছুটা বদলে দিল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কতটা ফলপ্রসূ হয়, তা নিয়ে এখন সবার নজর দিল্লির আদালতের দিকে।



