মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই বাইপাসের ধারের হাসপাতালে ভিড় বাড়তে শুরু করেছিল। কারণ জানা ছিল সকলের—পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলমুক্তি কার্যকর হচ্ছে আজই। দুপুর ২টো ২০ মিনিটে হুইলচেয়ারে চেপে হাসপাতালের মূল ফটকে দেখা যায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। সাদা ফুলছাপ পাঞ্জাবি, মুখে নীল মাস্ক—মুহূর্তটি ছিল নীরব, অথচ গভীর অনুভূতিতে ভরা। তিনি বেরিয়ে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত অনুগামীরা একসঙ্গে স্লোগান তুললেন—“পার্থদা জিন্দাবাদ”।
সেই স্লোগান, সেই ভিড়, সেই উচ্ছ্বাসের মাঝে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলমুক্তি যেন আরও গভীর তাৎপর্য নিয়ে উঠল। বহুদিন পর সামনে এসে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে কোনও উত্তর দেননি। শুধু ঘাড় নেড়ে জানিয়ে দিলেন—তিনি এখনই কিছু বলতে চান না। এই নীরবতা যেন ঝড়ের মাঝের থামা বাতাস—অনেক না বলা কথা জমে আছে সেখানে।


গাড়ি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। চালকের পাশের আসনে বসে নাকতলার উদ্দেশে রওনা হন পার্থ। গাড়ির পিছনে বাইক নিয়ে ছুটে চলতে থাকেন অনুগামীরা। ভিতর থেকে হাত জোড় করে নমস্কারের ভঙ্গিতে তাদের অভিবাদন জানাতে দেখা যায় প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

বাড়িতে ফিরলেন, বরণে চোখে জল
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলমুক্তির পরে নাকতলার বাড়িতে তাঁর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন আত্মীয়রা। বাড়িতে পৌঁছতেই তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ‘বরন’ করেন তাঁকে। উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাই এবং ভাইয়ের কন্যা। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় পর পরিবারের পরিচিত মুখগুলো সামনে আসতেই আবেগ সামলাতে পারেননি পার্থ। চোখ ভিজে ওঠে। তাঁকে সান্ত্বনা দেন ভাইয়ের মেয়ে।
বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় কিছুক্ষণ পরেই—কারণ বাহিরে তখনও অনুগামীদের ভিড়। ‘পার্থদা জিন্দাবাদ’ স্লোগান বাড়ির সামনের রাস্তায় যেন থামতেই চাইছিল না। অনেকে জানতে চাইছিলেন—কবে তিনি বেহালায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন।


বাড়ির ভিতরে ঢুকেই পার্থ স্মরণ করেন তাঁর প্রয়াত মামা—গীতিকার শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরিবার বলছে, তিনি আপাতত সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন।
আইনি পথ এখনও বাকি
পার্থের আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী জানান, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলমুক্তি আপাতত বড় স্বস্তি হলেও মামলার আইনি লড়াই চলবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, তিনি এখনই জনসমক্ষে বা রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন না।
কেন এতদিন জেল?
২০২২ সালের ২৩ জুলাই, নাকতলার বাড়ি থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল—সিবিআই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেই শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করা যাবে। সোমবার অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁর মুক্তির আদেশ দেন। এরপর আদালতের নথি জেল ও হাসপাতাল ঘুরে এসে এদিন তার বাস্তব রূপ নিল।
চিত্রটা এখন কোন দিকে?
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলমুক্তি শুধু একটি আইনি পদক্ষেপ নয়—এটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা এবং সমীকরণ তৈরি করেছে।
তিনি কি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরবেন?
তৃণমূলের সম্পর্ক কোথায় দাঁড়াবে?
বেহালা-মহেশতলা অঞ্চলে তাঁর প্রভাব কি আবার দেখা যাবে? প্রশ্ন অনেক। সময়ই বলবে।








