নবম-দশম নিয়োগ মামলায় অবশেষে জামিন পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে জামিনের আর্জি জানাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। ৭,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে এই প্রথম নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেলেন তিনি।
তবে জামিন পেলেও এখনই জেল থেকে বেরোতে পারছেন না পার্থ। কারণ, আরও একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তিনি অভিযুক্ত। এর আগে গ্রুপ সি নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেলেও তাঁর মুক্তি হয়নি। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সিবিআই ও ইডির একাধিক তদন্তে উঠে আসে বিপুল অর্থ ও সম্পত্তির তথ্য। বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকেও উদ্ধার হয়েছিল কাঁড়ি-কাঁড়ি টাকা। সেই থেকেই গত তিন বছর ধরে জেলে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
নিয়োগ মামলায় তাঁর গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তুলেছিল। কারণ, যে সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়কার সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী তাঁদের চাকরি হারান। চলতি মাসেই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই আবহেই জামিন পেলেন পার্থ। যদিও আদালত একইসঙ্গে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় ও অশোক সাহার জামিনের আবেদন খারিজ করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থর জামিন পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় আইনি পদক্ষেপ। তবে একাধিক মামলার জটের কারণে তাঁর মুক্তি এখনই সম্ভব নয়। প্রতিরক্ষা পক্ষ আশা করছে, ধাপে ধাপে অন্যান্য মামলাতেও তিনি জামিন পাবেন। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছে, জামিন পাওয়া মানে প্রমাণ মুছে যাওয়া নয়। মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত পার্থর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
তিন বছরের বেশি সময় জেল খাটার পর এই প্রথম নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেলেন পার্থ। তবে আপাতত তিনি আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেই থাকছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—অবশেষে কবে জেলমুক্ত হবেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী?



