পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে তীব্র আকার নিচ্ছে। সর্বত্র বাড়ছে জন অসন্তোষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। ইমরান খানকে দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি রাখা, সংবিধান সংশোধন করে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়া—এই সবকিছুর বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, শাহবাজ শরিফ সরকার এখন সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর পথে হাঁটার কথা ভাবছে।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আকিল মালিক জানান, সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে সরকার বাধ্য হবে সেগুলি নিষিদ্ধ করতে। এক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—ইমরান খান ও তাঁর সমর্থকদের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? উত্তরে মালিক বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই X (সাবেক টুইটার)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কিন্তু সন্তোষজনক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত কনটেন্ট সরাতে পাক প্রশাসন নির্দেশ দিলেও X তাতে সাড়া দিচ্ছে না। মালিকের বক্তব্য, “আমরা X-কে পাকিস্তানে একটি অফিস স্থাপনের অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাইনি।” তাঁর দাবি, ইমরানপন্থীরা X-কে ব্যবহার করে উত্তেজনা ও হিংসা ছড়াচ্ছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, মুখে সন্ত্রাসবাদের কথা বললেও প্রকৃত বাস্তবতা হল—শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ ক্রমশ বাড়ছে। ইমরান খানের গ্রেপ্তার ও তাঁর দল PTI-র ওপর কঠোর দমন-পীড়নে পাকিস্তানে গণতন্ত্র চাপে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়, যা নেপালের সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা টানছে অনেকেই।
বর্তমানে পাকিস্তানের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চিনের মডেল অনুসরণ করে সোশাল মিডিয়া কড়াকড়ি, এমনকি নিষিদ্ধ করার পথেও এগোতে পারে ইসলামাবাদ।



