মুরিদ নয়, এ বার ভোলারি। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ গুঁড়িয়ে যাওয়া পাকিস্তানের আর এক গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির পুনর্নির্মাণ শুরু হয়েছে—ভ্যান্টর উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ল সেই কাজ। ২০২৫ সালের ১০ মে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটে, সেই ভোলারিতেই এখন নতুন ছাদ, নতুন কাঠামোর চিহ্ন।
পহেলগাঁও হামলার পর পাল্টা জবাবে শুরু হওয়া ‘অপারেশন সিঁদুরে’ পাকিস্তানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই তালিকায় ছিল ভোলারি বিমানঘাঁটিও। উপগ্রহচিত্রে চার সময়ের ছবি তুলনায় স্পষ্ট—২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল ঘাঁটি অক্ষত, ১১ মে ধ্বংসস্তূপে পরিণত, ২ জুন মেরামতের কাজ শুরু, আর ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি নতুন করে হ্যাঙ্গারের ছাদ নির্মাণ চলছে।
এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে দাবি, ভোলারির যে হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল, সেখানে পাকিস্তানের এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান সাব ২০০০ ‘ইরিয়াই’ রাখা ছিল। ভারতীয় বায়ুসেনার বিশ্বাস, সেটি ধ্বংস হয়েছে। উপগ্রহচিত্রে সবুজ রঙের ছাদের একাংশে প্রবল আঘাতের চিহ্ন, ভাঙা কাঠামো ও ক্ষতিগ্রস্ত হ্যাঙ্গার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুরে’ পাকিস্তান-এর মোট ন’টি ঘাঁটিতে আঘাত হানে ভারত। এর আগেই মুরিদ, সুক্কুর ও নুর খান বিমানঘাঁটির মেরামতির ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভোলারি। যদিও কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা মহলে জোর চর্চা—রাফাল থেকে ছোড়া স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রেই হামলা চালানো হয়েছিল।
সূত্রের দাবি, ১০ মে ভোলারিতে হামলার পর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা হটলাইনে ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় ইসলামাবাদ। দীর্ঘ ৮৮ ঘণ্টার সামরিক সংঘাতের ইতি টানে দু’দেশ।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে। পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত ভূখণ্ডে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে একাধিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। ভোলারির উপগ্রহচিত্র সেই অভিযানের প্রভাব নতুন করে সামনে আনল।



