ভারতের কাছে একতরফা পরাজয়ের পর অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ম্যাচ হারের কারণ হিসেবে তিনি দাবি করলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে পিচ নাকি আচরণ বদলে ফেলেছিল। এই মন্তব্য ঘিরেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা, আর বিশেষজ্ঞ মহলে উঠছে দলের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ একসময় ছিল রোমাঞ্চে ভরা মহারণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ছবিটা যেন উল্টো। একের পর এক ম্যাচে ভারতের কাছে হারছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সেই একই চিত্র। ব্যাটে-বলে ব্যর্থতার নজির রেখে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে সলমন আলি আঘার দলকে।


ম্যাচের পরে অধিনায়কের মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক। তিনি বলেন, “প্রথম ইনিংসের তুলনায় দ্বিতীয় ইনিংসে পিচ অনেক ভালো আচরণ করেছে।” অর্থাৎ পাকিস্তান যখন ব্যাটিং করছিল, তখন পিচের চরিত্র নাকি বদলে গিয়েছিল—এমনই দাবি তাঁর। এই বক্তব্য সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে হাসির রোল ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এমন অজুহাত দেওয়ার বদলে দলের ব্যর্থতা স্বীকার করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরাও পাকিস্তানের একাধিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত—দলের প্রধান অস্ত্র উসমান তারিককে একাদশতম ওভারের আগে বল না দেওয়া। তখন পর্যন্ত ভারতের স্কোরবোর্ডে প্রায় শতরান উঠে গেছে, আর ঈশান কিষান ইতিমধ্যেই বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ফেলেছেন। প্রশ্ন উঠছে, দলের তুরুপের তাসকে এত দেরিতে আক্রমণে আনার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হল।
অধিনায়ক অবশ্য নিজের কৌশলের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “স্পিনারদের উপর আস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু ওদের দিনটা খারাপ গিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগেও ভুল হয়েছে। তবু আমরা স্পিনারদের উপরেই ভরসা রাখব। গত ছ’মাসে ওরা ভালো পারফর্ম করেছে।”


পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারানোকে বড় কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। আঘা বলেন, “রান তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই উইকেট পড়ে গেলে চাপ বাড়ে। বোলারদের পারফরম্যান্সেও ঘাটতি ছিল। প্রথম ইনিংসে বল ভালো গ্রিপ করছিল, কিন্তু প্রয়োজনের সময় আমরা সঠিক বল করতে পারিনি।”
তবে অতীত ভুলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন পাক অধিনায়ক। তাঁর কথায়, “এ ধরনের ম্যাচে আবেগ সব সময় বেশি থাকে। আমাদের এর মুখোমুখি হতে হবে। দু’দিন পর আরেকটা ম্যাচ রয়েছে। সেটা জিতেই সুপার এইটে উঠতে হবে।”
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের পরের ম্যাচ ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ কার্যত তাদের জন্য ‘করো বা মরো’ লড়াই।







