হাদি খুনে বিস্ফোরক দাবি অভিযুক্তের! ‘এই খুন জামায়াত–বিএনপির ষড়যন্ত্র’, আদালত চত্বরে সরব ফয়জল

হাদি খুনে অভিযুক্ত ফয়জলের বিস্ফোরক দাবি—জামায়াত ও বিএনপির হাত থাকতে পারে; এনআইএ-কে জেরা করার অনুমতি, তদন্তে নতুন মোড়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের আলোচিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়—আদালত চত্বরে দাঁড়িয়েই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়জল করিম মাসুদ। তাঁর অভিযোগ, এই খুনের পিছনে থাকতে পারে জামায়াতে ইসলামি এবং বিএনপি। শুধু তাই নয়, নিহত ওসমান হাদি-কে ‘জামায়াতের প্রোডাক্ট’ ও ‘জঙ্গি’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

রবিবার বিধাননগর আদালত-এ পেশ করার পর জেলে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফয়জল দাবি করেন, “আমি খুন করিনি। এটা জামায়াত এবং বিএনপির চাল হতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও তদন্তগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই মন্তব্যের দিনই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। অভিযুক্তদের জেরা করার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়, যা মঞ্জুরও করেছেন বিচারক। ফলে দমদম সংশোধনাগারে গিয়ে ফয়জল ও তাঁর সহযোগীকে জেরা করতে পারবে এনআইএ।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায়, যখন গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। কয়েকদিন চিকিৎসার পর ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর দীর্ঘ তদন্তের পর চলতি বছরের ৮ মার্চ বনগাঁও থেকে ফয়জল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগির হোসেনকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স

রবিবার আদালতে পেশের পর ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অভিযুক্তদের ২ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের ১৬ ও ১৮ নম্বর ধারা প্রয়োগের আবেদনও মঞ্জুর হয়েছে।

তবে নিজের অবস্থানে অনড় ফয়জল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে আমাকে দেখা গেলেও কোথাও প্রমাণ নেই যে আমি গুলি করেছি। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না।”

এই মামলায় এনআইএ-র সক্রিয়তা এবং অভিযুক্তের বিস্ফোরক দাবি—দুই মিলিয়ে তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত