নজরবন্দি ব্যুরোঃ সমস্ত বিরোধী দলগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই সক্রিয় হয়েছে সমস্ত বিরোধী দলের নেতৃত্ব। তবে এখনও দুরত্ব মিটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি কংগ্রেস। কিন্তু মমতার সুরে সুর মেলাচ্ছে বিক্ষুব্ধরা। দ্রুত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য হাইকম্যান্ডকে আর্জি জানাচ্ছেন কংগ্রেস বিক্ষুব্ধরা। সমমনস্ক সমস্ত দলগুলিকে দ্রুত একজোট হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন জি-২৩ অন্তর্ভুক্ত নেতারা।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত আনছে বিজেপি। ইডি, সিবিআই ভিজিল্যান্স বিভাগকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিহিংসার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠিতে জানিয়েছেন, সংসদে পাশ করানো হচ্ছে দিল্লি পুলিশ সংশোধনী এবং সিভিসি সংশোধনী। যার ফলে সিবিআই এবং ইডির নির্দেশকদের মেয়াদ পাঁচ বছর বধি বাড়ানো যাবে। যা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এছাড়াও তিনি বলেন, বেছে বেছে অবিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। বিজেপির জনস্বার্থ বিরোধী বিষয়গুলোকে নিয়ে যাতে বিরোধীরা মুখ খুলতে না পারে সেই জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কেন্দ্রের সরকারের এই জনস্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপের বিরোধী রুখে দাঁড়াতে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপরেই কংগ্রেসের তরফে আনন্দ শর্মা জানিয়েছেন, বিরোধী ঐক্য নিয়ে বারবার একই অবস্থানে অনড় রয়েছে কংগ্রেস। আগেও কংগ্রেসকে উদ্যোগ নিতে হয়েছে। বিরোধীদের কেন্দ্রস্থলে কংগ্রেসের থাকা জরুরী বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই কথা মণীষ তিওয়ারির মুখেও। তিনি বলেন, সমস্ত প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির একজোট হওয়া জরুরী।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের অবস্থান দেখে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অন্যান্য নেতারাও। এবার ইউপিএ চেয়ারপার্সন হিসাবে বর্ষীয়ান সক্রিয় রাজনীতিবীদ শরদ পাওয়ারকেই চাইছেন বিরোধী দলের নেতারা। কারণ, বিরোধী দলগুলিকে একজোট করতে পারবেন একমাত্র তিনিই। একমাত্র ইউপিএ জোটে কংগ্রেসের নাম বদল ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
মমতার সুরে সুর, কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শিবসেনার

শিবসেনার মুখপত্র সামনায় লেখা হয়েছে কংগ্রেস দলের মধ্যে পারিবারিক সমস্যা থাকতেই পারে। তা বিরোধীদের ঐক্যের মুখে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। শরদ পাওয়ার, উদ্ধব ঠাকরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেজরিওয়াল, কে চন্দ্রশেখর রাও, এম কে. স্ট্যালিন – প্রত্যেকেই প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব। নতুন বিরোধী জোটের প্রেক্ষাপটে তাঁদের নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। কংগ্রেস এর জন্য কোনও প্রচেষ্টা শুরু করেনি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এগিয়ে আসতে হয়েছিল।



