অপরিশোধিত তেলের দামে হঠাৎ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি বিশ্ববাজারে আতঙ্ক ছড়াতেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সোমবার বাজার খুলতেই সেনসেক্স ও নিফটিতে রেকর্ড পতন দেখা যায়। প্রি-ওপেনিং সেশন থেকেই সূচক ধাপে ধাপে নামতে থাকে এবং বাজার খোলার পরেই এক ধাক্কায় সেনসেক্স ২৩০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মনে ফের ‘ব্ল্যাক মানডে’-র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টা ৪৭ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স নেমে আসে ৭৬,৬০৮ পয়েন্টে, যা ৯ মাসের মধ্যে অন্যতম বড় পতন। একই সঙ্গে নিফটি-৫০ সূচক প্রায় ২.৯ শতাংশ পড়ে ২৩,৭৪৩ পয়েন্টের নীচে নেমে যায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তাই এই ধসের প্রধান কারণ।
বিশ্ববাজারে সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৭ মার্কিন ডলারে পৌঁছে যায়। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১০,৬০০ টাকা। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের জ্বালানি সংক্রান্ত সংস্থাগুলির শেয়ারে। বাজার খুলতেই IOC, HPCL, BPCL, Savita Oil এবং GAIL-এর মতো সংস্থার শেয়ারে বড় পতন দেখা যায়।
উদাহরণস্বরূপ—
IOC-র শেয়ার প্রায় ৬.৬৭ শতাংশ পড়ে যায়।
HPCL-র শেয়ার পড়ে ৭.৭৫ শতাংশ।
জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই এই পতন আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
তবে বিপরীত ছবি দেখা গিয়েছে কিছু বিকল্প জ্বালানি সংস্থার ক্ষেত্রে। তেলের দাম বাড়ার ফলে বাজারে কয়লা, তাপবিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ ভিত্তিক সংস্থাগুলির শেয়ারে কিছুটা উত্থান লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি আরও তীব্র হয় এবং তেলের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু শেয়ার বাজারেই নয়—ভারতের জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচেও পড়তে পারে।



