এখনই কাজে ফিরছেন না জুনিয়র চিকিৎসকরা। গতকাল রাতেই জেনারেল বডির মিটিং হয় জুনিয়র চিকিৎসকদের। সেই বৈঠকের পর চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আবার যাতে বৈঠক করা যায় সেই তোড়জোড় চলছে। নবান্ন কে আবার চিঠি দেওয়া হবে জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষে। তবে এবার আলোচনায় তাঁরা আরও একটি দাবি জানাতে চান।
জানা গিয়েছে, রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ছাত্র সংসদ গঠন হোক বলে তাঁরা দাবি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ আলোচনাও হয় কিন্তু কোনও সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের তরফের দাবি, রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিনিধি চয়ন করা হোক। আরজি করের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে আর যেন না হয় তার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জুনিয়র ডাক্তাররা জানিয়েছেন আমাদের চতুর্থ এবং পঞ্চম দফা দাবি এবং স্বাস্থ্য সচিবকে নিয়ে যে দাবি ছিল তা নিয়ে ফের আলোচনায় বসতে চাই। রাজ্য সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। আবার লিখিত দাবিপত্র পাঠানো হবে রাজ্য সরকারের কাছে। আমরা কাজে ফিরতে চাই, আমরা চাই অতি দ্রুততার সঙ্গে এই অচলাবস্থা কাটুক। কিন্তু যতক্ষণ না দাবী পূরণ হবে ততক্ষন কর্মবিরতি চলবে।
মোট পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে একটি বৈঠক করেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রায় তিন ঘন্টার কাছাকাছি চলে মেগা বৈঠক। এই বৈঠকে জুনিয়র চিকিৎসকদের সিংহভাগ দাবিই মেনে নেয় রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার রাজ্যের প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক পদে পরিবর্তন এনেছে নবান্ন।
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রায় সব দাবি মেনে নিয়েছে রাজ্য সরকার। অথচ তার পরও কাজে ফিরতে নারাজ তাঁরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে বৈঠকের পর জুনিয়র ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, আরও আলোচনা চান তাঁরা। যতদিন না সেই আলোচনা হচ্ছে অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। অর্থাৎ জারি থাকবে কর্মবিরতি। এহেন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কবে কাজে ফিরবেন ডাক্তাররা! ঘটনায় রুষ্ট সুপ্রিম কোর্টও।



