বিহারের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক দিন। নীতীশ কুমার আবারও রাজ্যের নেতৃত্ব নিতে চলেছেন, আর সেটিও দশমবার। বৃহস্পতিবার বেলা ১১:৩০টায় ঐতিহাসিক গান্ধি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই শপথগ্রহণকে ঘিরে গোটা বিহারজুড়ে প্রবল উত্তেজনা, কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত থাকছেন অনুষ্ঠানে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের মতো রাষ্ট্রীয় রাজনীতির মুখ্য নেতারা আজ বিহারের এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হবেন। গান্ধি ময়দানে পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তার কড়াকড়ি, মঞ্চ প্রস্তুত, এবং প্রশাসনের তরফে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে।


মোদি-শাহের উপস্থিতিতে দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ কুমার
এ বছরের বিহার নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়ের ফলে আবারও ক্ষমতায় ফিরছেন নীতীশ কুমার। ২৪৩টি আসনের মধ্যে এনডিএ পেয়েছে মোট ২০২টি আসন। বিজেপি জিতেছে ৮৯টি, জেডি(ইউ) ৮৫টি, চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) পেয়েছে ১৯টি, হিন্দুস্তানি আওম মোর্চা পেয়েছে পাঁচটি এবং উপেন্দ্র কুশাওয়া নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা জিতেছে চারটি আসন।
এই বিপুল জয়ের পর থেকেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে নতুন সরকার গঠনের। ইতিমধ্যেই বিজেপির বিধায়কদের দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন সম্রাট চৌধুরী, এবং ডেপুটি লিডার করা হয়েছে বিজয় কুমারকে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, এই দুই নেতাই হতে চলেছেন বিহারের নতুন উপ-মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে বিজেপি এবং জেডি(ইউ)–র সমীকরণ আরও শক্তিশালী হবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

নীতীশ কুমার শপথ নেবেন ২২ জন মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। সরকারের মন্ত্রিত্ব বণ্টনেও জোটের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে। বিজেপি থেকে ৯ জন, জেডি(ইউ) থেকে ১০ জন, চিরাগ পাসোয়ানের LJP (Ram Vilas) থেকে তিনজন মন্ত্রী শপথ নেবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া জিতন রাম মাজির হিন্দুস্তানি আওয়ামি মোর্চা এবং উপেন্দ্র কুশাওয়ার রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা—দুটি দলই পেতে চলেছে একটি করে মন্ত্রিত্ব।


বিহারের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় নীতীশ কুমারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। রাজ্য প্রশাসন, উন্নয়ন এবং জোট রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত। এই শপথগ্রহণ শুধু নতুন সরকারের সূচনাই নয়, বরং বিহারের রাজনীতিতে তাঁর দশম অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এনডিএ–র শক্তি এবং জোটের স্থিতিশীলতার প্রতীক। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি বিহারের প্রতি কেন্দ্রের বিশেষ গুরুত্বের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
আজকের এই শপথগ্রহণ বিহারের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে নতুন দিশা দেবে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। জনগণের সমর্থনে ভর করে নীতীশ কুমার আবারও দায়িত্ব নিচ্ছেন রাজ্যের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের। গান্ধি ময়দানের দিকে তাই আজ দেশের সব রাজনৈতিক নজর।







