নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP-র দাপট: সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্মই, আরও ৯ মন্ত্রী নেওয়ার সুযোগ!

দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার। কিন্তু তাঁর মন্ত্রিসভায় সংখ্যায় এগিয়ে BJP। এনডিএ আরও ৯ পদ খালি রেখে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনা খোলা রাখল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিহারের রাজনীতিতে আবারও নতুন সমীকরণ। দশমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার, কিন্তু তাঁর নতুন নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP–র সংখ্যাই বেশি। পটনার গান্ধী ময়দানে বিশাল সমাবেশে শপথ নেন মোট ২৭ জন মন্ত্রী, যার মধ্যে ১৪ জনই বিজেপি বিধায়ক। ফলে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ হলেও তাঁর মন্ত্রিসভার নিয়ন্ত্রণমূলক শক্তি এখন বিজেপির হাতেই—এমনটাই বলছে রাজনৈতিক মহল।

নীতীশ কুমারের জেডিইউ থেকে শপথ নিয়েছেন ৮ জন। BJP থেকেছেন ১৪ জন—যার মধ্যে রয়েছেন দুই উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি ও বিজয় সিংহ। জোটের অংশ এলজেপি (রামবিলাস)-এর সঞ্জয় কুমার, সঞ্জয় কুমার সিংহ, আরএলএম-এর দীপক প্রকাশ এবং হাম থেকে এক জনও নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এই সব সংখ্যা যোগ করলে স্পষ্ট—নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP-র অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী।

বিহার বিধানসভায় মোট আসন ২৪৩টি। BJP জিতেছে ৮৯, JDU ৮৫, এলজেপি (রামবিলাস) ১৯ এবং RLM ৪টি আসন। বিধানসভার পাশাপাশি বিহারে রয়েছে বিধানপরিষদও। নিয়ম অনুযায়ী, বিহারে সর্বোচ্চ ৩৬ জন মন্ত্রী করা যায়। সেই হিসেবে এখনও ৯টি পদ খালি রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনডিএ এই শূন্যপদগুলি রেখে ভবিষ্যতের জটিল সমীকরণ সামলানোর সুযোগ তৈরি করল।

নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP-র দাপট: সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্মই, আরও ৯ মন্ত্রী নেওয়ার সুযোগ!

গত বছর নীতীশ জোট বদলে RJD-কংগ্রেস জোট ছেড়ে BJP-র সমর্থনে সরকার গড়েছিলেন। তখনও দেখা গিয়েছিল—জেডিইউর তুলনায় নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP–র সদস্যসংখ্যাই বেশি। সেই সরকারে জেডিইউ মন্ত্রী ছিলেন ১৩ জন এবং বিজেপি ১৯ জন। এবার সেই সংখ্যা আরও সঙ্কুচিত হয়েছে, কারণ ছোট দলগুলিকে জায়গা দিতে হয়েছে।

নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP-র দাপট: সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্মই, আরও ৯ মন্ত্রী নেওয়ার সুযোগ!
নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP-র দাপট: সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্মই, আরও ৯ মন্ত্রী নেওয়ার সুযোগ!

বিজেপির তরফে আগে বলা হয়েছিল ‘৬:১ সূত্রে’ মন্ত্রিসভা গঠন হবে—অর্থাৎ ৬ বিধায়ক পিছু ১ মন্ত্রী। বাস্তবে সেই সূত্র মানা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় হয়তো সেই ফর্মুলাই কাজে লাগতে পারে। এই সূত্র অনুযায়ী পরবর্তী সম্প্রসারণে BJP আরও পক্ষে থাকতে পারে, এমন মন্তব্যও উঠছে।

রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—জোটের ভেতরের ক্ষমতার টানাপোড়েন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, নীতীশকে ফের মুখ্যমন্ত্রী করে BJP জোট ধর্ম পালনের বার্তা দিলেও নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি স্পষ্ট শক্তির ইঙ্গিত। এতে নীতীশের উপর চাপ বাড়াতে চায় বিজেপি—এমন দাবি বিরোধীদেরও। যদিও বিরুদ্ধ ব্যাখ্যাও আছে। সেই অংশের দাবি—মুখ্যমন্ত্রীর দফতর বণ্টনের ক্ষমতা আছে। নীতীশ কোন দলকে কত গুরুত্বপূর্ণ দফতর দেন, সেটাই নির্ধারণ করবে বাস্তব ভারসাম্য।

কেন্দ্রে BJP-র শক্তি কমেছে—৩০৩ থেকে ২৪০-এ। সেই সরকার টিকিয়ে রাখতে জেডিইউ এবং টিডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই অনেকের ধারণা ছিল, নীতীশের দল কেন্দ্রের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দফতর পাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, রেল বা সড়ক মন্ত্রক BJP নিজের কাছেই রেখেছে।

এদিকে বিহারে দফতর বণ্টন এখনও ঘোষণা হয়নি। কোন দল কোন দফতর পাবে—তা থেকেই স্পষ্ট হবে নীতীশের মন্ত্রিসভার ভেতরে বাস্তব ক্ষমতার পাল্লা। আপাতত যা স্পষ্ট—নতুন নীতীশ মন্ত্রিসভায় BJP–র সংখ্যা এবং কাঠামো আগামী মাসগুলিতে রাজনীতিকে আরও সরগরম করে তুলবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন