কয়লা খনিতে আচমকা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল নাইজিরিয়ার প্লেটু রাজ্য। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ২৭ জন। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, খনির ভিতরে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
নাইজিরিয়ার প্লেটু রাজ্যের বাশার জেলার কাম্পানিন জ়রাক নামে একটি পুরোনো কয়লা খনিতে কাজ চলছিল। পাহাড়ি ও রুক্ষ এই অঞ্চলের ওই খনিতে শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। খনির আশপাশে রয়েছে শ্রমিকদের বসতি।


বুধবার সকালে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক খনির ভিতরে কাজ করছিলেন। আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রথমে স্থানীয় শ্রমিক ও বাসিন্দারাই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। খনির ভিতর থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধার করা হয়।
খনির শ্রমিক ইব্রাহিম দাত্তিজো সানি বলেন, “বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছুটে যাই। চারপাশে রক্ত ছড়িয়ে ছিল।”


স্থানীয় প্রশাসনের কর্তা আলহাজি আলিয়ু আদামু ইদ্রিস জানিয়েছেন, “৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি।” সলিড ইউনিট নাইজিরিয়া লিমিটেড নামে একটি সংস্থা খনিটি পরিচালনা করত। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খনির ভিতরে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে ছিল। সেখানেই আগুন লাগায় বিস্ফোরণ ঘটে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ওই অঞ্চলে খনি দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারী বৃষ্টির জেরে খনিধসে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে প্লেটু অঞ্চলে অবৈধ খনির সংখ্যা বেড়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে।







