বোমাবাজি মামলায় NIA-র জালে নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা শামসুল ইসলাম, গভীর রাতে অভিযান

নির্বাচনী বোমাবাজি মামলায় গভীর রাতে দাউদপুরের বাড়ি থেকে শেখ শামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করল NIA। একইসঙ্গে ভাঙড়ে শওকত মোল্লার খোঁজেও তল্লাশি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নন্দীগ্রামের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ শামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। নির্বাচনী হিংসা ও বোমাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে এই পদক্ষেপ বলে সূত্রের দাবি।

তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের দাউদপুরে শামসুল ইসলামের বাড়িতে রাতের অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় NIA-র একটি দল সেখানে পৌঁছে তাঁকে আটক করে। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই মামলার সূত্রপাত নির্বাচনের সময় কাঁথির কাঞ্চননগর এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি বোমাবাজির ঘটনায়। অভিযোগ, ওই ঘটনায় বিজেপির এক নেত্রী-সহ একাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছিলেন। ঘটনার পর শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছিল স্থানীয় পুলিশ। তবে অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, তদন্ত এগোলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপর বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হলে মামলার তদন্তভার NIA-র হাতে যায়।

আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে শামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে আরও কিছু পুরনো ঘটনাও। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শামসুল ইসলামের বাড়িতে বিস্ফোরণের একটি ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই ঘটনায় বিস্ফোরক জাতীয় সামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগও উঠেছিল। যদিও সেই ঘটনার তদন্ত ও বর্তমান মামলার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে একই সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়েও তৎপরতা বাড়িয়েছে NIA। তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার খোঁজে তাঁর বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে শওকত মোল্লার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি NIA।

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই গ্রেপ্তারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনী হিংসা সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই তদন্তাধীন। এখন NIA-র পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন