দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রকে পাঠালেন বর্তমান CJI বি.আর. গাভাই। সোমবার তিনি তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বিচারপতি সূর্য কান্তের নাম সুপারিশ করেছেন। এর মাধ্যমে প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল যে, আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে ভারতের বিচার বিভাগের শীর্ষ আসনে বসতে চলেছেন সূর্য কান্ত।
নিয়ম অনুসারে, ভারতের প্রধান বিচারপতির অবসরের এক মাস আগে পরবর্তী প্রধান বিচারপতির নাম সুপারিশ করতে হয়। সেইমতো আইন মন্ত্রক সম্প্রতি বর্তমান প্রধান বিচারপতি গাভাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। জবাবে গাভাই দেশের দ্বিতীয় প্রবীণ বিচারপতি সূর্য কান্তের নাম পাঠান কেন্দ্রের কাছে। ২৩ নভেম্বর অবসর নেবেন গাভাই, আর ২৪ নভেম্বর দায়িত্ব নেবেন সূর্য কান্ত, যিনি হবেন ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি।


সূর্য কান্ত এই পদে প্রায় এক বছর দুই মাস দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। বিচারপতির কেরিয়ারের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়—এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক অদম্য সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠা।
হরিয়ানার হিসার জেলার একটি ছোট গ্রাম থেকে উঠে আসা সূর্য কান্তের শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। গ্রামের স্কুলে মেঝেতে বসে পড়াশোনা করতেন তিনি। প্রথম শহর দেখেন দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা দিতে গিয়ে। পরবর্তীতে হরিয়ানার রোহতকে অবস্থিত একটি আইন কলেজ থেকে LLB পাশ করেন। তারপর স্থানীয় জেলা আদালত থেকে আইনজীবী হিসেবে কেরিয়ার শুরু হয় তাঁর।
এরপর ক্রমশ পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন তিনি। তাঁর তীক্ষ্ণ আইনজ্ঞান, নিরপেক্ষ রায় ও সাধারণ মানুষের পক্ষে সোচ্চার অবস্থান তাঁকে এনে দেয় আলাদা মর্যাদা। ২০১৮ সালে তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আজ, সেই দীর্ঘ পথের শেষে, তিনি ভারতের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ পদে বসতে চলেছেন।


বিচারপতি সূর্য কান্তের মানবিকতা ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর রায়গুলোতেও প্রতিফলিত হয়। একাধিক ঐতিহাসিক মামলায় তিনি ন্যায়ের মূল আত্মা রক্ষা করেছেন, যা তাঁকে বিচারবিভাগে আলাদা স্থান দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক ন্যায় ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা সম্পর্কিত মামলায় তাঁর রায়গুলো প্রশংসিত হয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
এই মুহূর্তে দেশের বিচারব্যবস্থা নানা জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। নাগরিক অধিকার, সংবিধান রক্ষা এবং বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। সেই পরিস্থিতিতে একজন অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ বিচারপতি হিসেবে সূর্য কান্তের দায়িত্বগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ইতিহাসে সূর্য কান্ত হবেন হরিয়ানার প্রথম প্রধান বিচারপতি, যা নিজেই এক গর্বের অধ্যায়। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের বিচারপতির আসনে বসা তাঁর যাত্রা নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
সব ঠিকঠাক থাকলে, ২৪ নভেম্বর সকালেই শপথ নেবেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ বিচারপতি, আইনমন্ত্রী, ও একাধিক প্রাক্তন বিচারপতিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।







