উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশিকার পরেই এবার নয়া মামলা দায়ের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশিকার পরেই এবার নয়া মামলা দায়ের। রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা যেন কিছুতেই কাটছে না। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দপাধায় ঘোষণা করেছিলেন পুজোর আগেই রাজ্যে হবে ২৪০০০ শিক্ষক নিয়োগ। পুজোর পরে হবে আরো ৮০০০ নিয়োগ। দীর্ঘদিন ভাগ্য ঝুলে থাকা হবু শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটে এই ঘোষণার পরেই। সেই মত প্রকাশিত হয় ইন্টারভিউ তালিকা। তবে তারপরেই ইন্টারভিউ তালিকার  অস্বচ্ছতার অভিযোগে আগের অনেকবারের মত ফের এই নিয়োগে স্থগিতাদেশ জারি করে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুনঃ উত্তপ্ত ভূস্বর্গ, ১০ দিনে পঞ্চমবার সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে খতম পাঁচ লস্কর সদস্য।

গত শুক্রবারই হাইকোর্ট এই নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে নতুন তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়। যার জন্য সাতদিনের নির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আজ উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩৬ জন পদ প্রার্থী প্রকাশিত ইন্টারভিউর তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নয়া মামলা দায়ের হল হাইকোর্ট। মামলাকারিদের বক্তব্য, যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে মানা হয়নি ২০১৯ সালের বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের নির্দেশ। প্রকাশ করা হয়নি স্বচ্ছ ইন্টারভিউ তালিকা। আগামী মঙ্গলবার বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। সৌমিতা সরকার, হাবিবুল্লা শেখ সহ ১৩৬ মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী আবেদনপত্রে জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের মেধাতালিকায় ১৩৬ জন প্রার্থীর নাম ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে ২১ জুন যে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন সেই তালিকা তাঁরা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ ১৩৬ জন চাকরিপ্রার্থীর।

তাঁদের আরও অভিযোগ এদের সকলের মেধার সমমেধার অনেকের নাম ২০১৯ সালের মেধা তালিকা ও প্রকাশিত ইন্টারভিউ তালিকায় আছে । অথচ এই ইন্টারভিউ তালিকায় তাদের নাম থাকলেও বাদ পড়েছে ১৩৬ জনের নাম। আশিষবাবু জানিয়েছেন বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য গত ১১ ডিসেম্বর ২০২০ সালে ২০১৯ সালের মেধা তালিকা সম্পূর্ন বাতিল করায় নির্দেশের পাশাপাশি স্বচ্ছ মেধা তালিকা প্রকাশ করাও নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশে আরও বলা হয়েছিল রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন যে মেধাতালিকা প্রকাশ করবে তাতে চাকুরী প্রার্থীর নাম বয়স এবং প্রাপ্ত নম্বর যেমন তালিকায় রাখতে হবে তার পাশাপাশি শূন্যপদ আরো বাড়াতে হবে এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করবে তার ১৫ দিন আগে যে শূন্যপদ থাকবে সেটাও নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে নির্দেশিকার পরেই এবার নয়া মামলা দায়ের। যারা বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয় তাদের ইন্টারভিউতে রাখা যাবে না। অথচ ইন্টারভিউ তালিকা দেখা যাচ্ছে কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। নয়া এই মামলার ফলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রাজ্যের হবু শিক্ষকেরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন