দক্ষিণ এশিয়ায় একের পর এক রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতির পর এবার নেপাল সংকট (Nepal Crisis) নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে নয়াদিল্লির কাছে। কাঠমান্ডুর রাস্তায় গণআন্দোলন, সরকারের পতন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কূটনৈতিক অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই বিপদ ডেকে আনছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরিস্থিতি নিয়ে টানা রিপোর্ট নিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের কাছ থেকে। খুব শিগগিরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক ডাকা হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, কেন নেপালের এই অস্থিরতা ভারতের জন্য এতটা চিন্তার কারণ?


এই ৫ কারণে চরম উদ্বেগে ভারত সরকার, যত কান্ড এখন কাঠমান্ডুতেই!

প্রথমত, সীমান্ত নিরাপত্তা। ভারত-নেপাল সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এখানে মানুষের যাতায়াত প্রায় অবাধ। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধচক্র, চোরাকারবারি ও জঙ্গি সংগঠন সহজেই সুযোগ নিতে পারে। অতীতে গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে, পাকিস্তানের আইএসআই নেটওয়ার্ক নেপাল হয়ে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। জাল নোট পাচারও হয়েছে এই পথেই। এখন আবার আশঙ্কা বাড়ছে যে, জইশ-ই-মহম্মদ বা খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী দুর্বল আইনশৃঙ্খলার সুযোগ নিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। ঐতিহাসিকভাবে নেপাল ভারতের প্রভাববলয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাঠমান্ডুতে ব্যাপক বিনিয়োগ শুরু করেছে চিন। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর অংশীদার করতে মরিয়া বেইজিং। এর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তৃতীয়ত, মানবিক ও সামাজিক প্রভাব। বিপুল সংখ্যক নেপালি নাগরিক ভারত জুড়ে কাজ করেন, পড়াশোনা করেন, এমনকি ভারতীয় সেনার গোর্খা রেজিমেন্টেও যুক্ত। যদি নেপালে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হয়, তবে সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী ঢল নামতে পারে ভারতে। এতে সামাজিক চাপ বাড়বে, শ্রমবাজারেও প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।


চতুর্থত, অর্থনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। ভারত নেপালের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। জলবিদ্যুৎ, কৃষিজাত পণ্য ও পর্যটন আসে নেপাল থেকে, আর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ রফতানি করে ভারত। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নাড়িয়ে দিতে পারে। পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতেও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।
পঞ্চমত, ভূ-রাজনৈতিক অভিঘাত। নেপালের অস্থিরতা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে। ভারত দুর্বল হলে, চিন-পাকিস্তান জোট নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। এতে ভারতের কূটনৈতিক মনোযোগ অন্যত্র সরে গিয়ে আন্তর্জাতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
সব মিলিয়ে নেপাল সংকট ভারতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তে শান্তি আর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নয়াদিল্লি এখন প্রতি মুহূর্তে কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, নেপাল যদি অশান্ত থাকে, তার অভিঘাত সরাসরি এসে পড়বে ভারতের উত্তর সীমান্তে।








