একুশের বিধানসভায় বাংলার যে তিন দলের বৃহত্তর জোট তৈরি হয়েছিল, সেই জোটের বাঁধন ক্রমেই যেন আলগা হচ্ছে। সিপিআইএম, কংগ্রেস ও আইএসএফ। বিধানসভায় হাত ধরাধরি করে লড়ে একটি মাত্র আসন জেতে। তাও নব্যনির্মিত দল আইএসএফ। ভাঙড় থেকে জেতেন নওশাদ সিদ্দিকী। এরপর লোকসভায় সেই জোট সম্ভব হয়নি। বাম ও কংগ্রেস একত্রে লড়লেও পৃথকভাবে লড়ে আইএসএফ। আর এবার কেন এই জোট বাস্তুবায়িত হয়নি তা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নওশাদ।
আরও পড়ুন: মন্ত্রিত্ব পেয়েই দিলীপ-দরবারে সুকান্ত, গলল বরফ?


নওশাদের দাবি, তৃণমূলকে সুবিধা করে দিয়েছে খোদ বাম ও কংগ্রেস। তাঁদের পরিকল্পনায় ভুল থাকার কারণেই রাজ্যে এই হতশ্রী ফলাফল হয়েছে। এমনকি তিনি সাফ বলেছেন, রাজ্যের শাসক দলের পক্ষে থেকেই ভোটে লড়েছে শতাব্দীপ্রাচীন এই দুই দল। তবে, এ বিষয়ে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের নেতারা এখনো পর্যন্ত মুখ খোলেননি। কিন্তু, নওশাদের এ হেন মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

এবারের লোকসভায় ৪২ আসনের মধ্যে ৩০ আসনে বামেরা প্রার্থী দেয়। বাকি কংগ্রেস। একে অপরের সমর্থন নিয়েই ভোটে লড়ে তাঁরা। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, মালদহ দক্ষিণ এই আসনটি থেকে কেবল জয় পেয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু, বামেরা খাতা খুলতেই পারেনি। শুধু তাই নয়, বামেদের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জনের জামানত জব্দ হয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষে ছিল বাম-কং, হতশ্রী ফলাফলের পর বিস্ফোরক নওশাদ



তবে, আইএসএফ যে এককভাবে খুব ভালো করেছে তাও নয়। তাঁরা একটিও আসন তো পায়নি, সঙ্গে যে ভাঙড় আসন বিধানসভায় তাঁরা জেতে সেখানেও লিড নিতে ব্যর্থ হয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী। এদিকে, লোকসভার পরেই শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভার প্রস্তুতি। আগামী মাসেই আবার চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। সেখানে কি জোট হবে এই তিন দলের নাকি ফের একসঙ্গে বাম-কং আর পৃথক হবে আইএসএফ। এ উত্তর ফেলুদার ভাষায় ‘মা গঙ্গাই জানেন’!








