এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক, ঠিক সেই সময়েই ফের ভোটমুখী বাংলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। জানুয়ারির মাঝামাঝি দু’দিনের সফরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে পরপর দু’টি জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর। বিজেপির অন্দরে এই সফরকে আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
মালদহ ও হাওড়ায় মোদীর কর্মসূচি
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সভা করবেন উত্তরবঙ্গের মালদহে। পরদিন, অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি, দক্ষিণবঙ্গে এসে হাওড়ায় জনসভা করবেন তিনি। ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা না হলেও, নতুন বছরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।


তাহেরপুর সফরের অভিজ্ঞতা এখনও টাটকা
এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর নদিয়ার তাহেরপুরে জনসভার জন্য বাংলায় এসেছিলেন মোদী। তবে ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার সেখানে নামতে পারেনি। কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই ভার্চুয়ালি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। সেই বক্তৃতায় রাজ্যের শাসকদলকে দুর্নীতি ইস্যুতে আক্রমণ করার পাশাপাশি ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী।
এসআইআর ইস্যুতে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করছে All India Trinamool Congress। শাসকদলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং ভোটের সময় তার জবাব দেবেন। পাল্টা বিজেপির দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নাম বাদ দিতেই এই উদ্যোগ, আর তাই আতঙ্কিত তৃণমূল।
শাহ ও শুভেন্দুর দাবিতে আরও চড়া সুর
এই রাজনৈতিক আবহেই গত ২৯ ডিসেম্বর তিনদিনের সফরে বাংলায় এসে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বড় দাবি করেন Amit Shah। তাঁর কথায়, এ বার বাংলায় পরিবর্তন নিশ্চিত এবং বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেতে পারে। একই সুরে মালদহের চাঁচলের সভা থেকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari দাবি করেন, সনাতনী হিন্দুরা একজোট হলে বিজেপি ২২০ আসনের কাছাকাছি পৌঁছবে।


মোদীর বার্তার দিকে নজর
শাহ ও রাজ্য নেতৃত্ব যখন প্রকাশ্যে পরিবর্তনের দাবি তুলছেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর পরপর দু’টি জনসভা নিঃসন্দেহে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। নতুন বছরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে দাঁড়িয়ে মোদী কী বার্তা দেন—সেটাই এখন নজরে রাজনৈতিক মহলের।








