এক বেলাতেই বড়ো সিদ্ধান্ত, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নয়া পদক্ষেপ নবান্নর

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ এক বেলাতেই বড়ো সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। প্রাথমিক শিক্ষা সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে আজই হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল হাইকোর্টে। হাজির হয়ে বছর খানেক আগের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন আদালতের কাছে। আদালতের তরফে বলা হয়েছিল এবার দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ করা হোক প্রাথমিকে।

আরও পড়ুনঃ ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা, কেষ্টর গড় থেকে CBI-এর হাতে গ্রেপ্তার তৃণমূল কর্মী

আদালত থেকে পর্ষদ সভাপতি ফেরার বেলা গড়ানোর মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। সূত্রের খবর আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মালদহ এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা মিলিয়ে মোট ৩৯২৫ টি শূন্য পদে নিয়োগ হবে শীঘ্রই। একই সঙ্গে ভাবা হচ্ছে  ওই দুই জেলায় তিন হাজারের বেশি প্রাথমিক শিক্ষক পদ তৈরির কথা।

আজ নবান্ন সভাঘরের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব  হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের যে প্যানেল তৈরি হয়েও এতোদিন স্থগিত ছিল তার নিয়োগ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে সাংবাদিক বৈঠকে।

উল্লেখ্য  ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় ৬টি প্রশ্ন ভুল ছিল। সেই প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, যাঁরা ওই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছেন তাদের পুরো নম্বর দিতে হবে। কিন্তু সেই নম্বর দেওয়া হয়নি। যার ফলে হেনস্থার শিকার হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরে ভুল প্রশ্নপত্রের উত্তরদাতাদের নম্বর না দেওয়ার কারণে পরবর্তী সময় আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয় মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে।

এক বেলাতেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড়ো সিদ্ধান্ত নিল মমতা সরকার। 

আদালত অবমাননা মামলার শুনানি শুরু হওয়ার আগেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে মামলাটিতে মানিক ভট্টাচার্যকে যুক্ত করা হয়। পর্ষদের কাণ্ডকারখানায় চরম বিরক্ত বিচারপতি মানিক ভট্টাচার্যকে হাইকোর্টে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেন। বিচারপতির নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকের আইনজীবী  মানিকবাবুকে আরেকটু সময় দেওয়ার আর্জি জানান। কিন্তু বিচারপতি সেই আইনজীবীর বক্তব্যে কর্ণপাত করেননি।

নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আজ, অর্থাৎ সোমবার বেলা ১১ টায় সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক বাবুকে। তার পরেই আজ সকালে ঠিক সময়ে আদালতে পৌঁছে যান মানিক বাবু। আদালতে গিয়ে তিনি ক্ষমা চাইলে বিচারক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘‘আপনাকে অপমান করার কোনও উদ্দেশ্য নেই আদালতের। কিন্তু আপনি আদালতের নির্দেশ মানেননি। তাই এই পদক্ষেপ। আপনি ল’কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন? তার পরও আইনকে অবহেলা করেছেন?” একই সঙ্গে আজ রাজ্যের সমস্ত স্কুল গুলির শূন্য পদ গুলিতে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন