স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুর পরকীয়া, মাটির নিচে দেহ! শিউরে ওঠা খুনের ঘটনা ময়নাগুড়িতে

বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে খুন? নিজের বাড়ির মাটিতে পুঁতে রাখা হলো যুবকের মৃতদেহ, ফরেনসিক তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে এক ভয়াবহ খুনের ঘটনা রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে এক যুবককে খুন করে তার মৃতদেহ বাড়ির কলপাড়ের মাটির নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত পরিমল রায় এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায়—দু’জনেই পলাতক।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়নাগুড়ির ব্রহ্মপুর বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিমল ও গৌতম রায় ছোটবেলার বন্ধু। একসঙ্গে অসমে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তাঁরা। সেই সূত্রেই গৌতমের পরিমলের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং অভিযোগ, তিনি পরিমলের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ পরিমল ফোন করে গৌতমকে বাড়িতে ডেকে পাঠায়। এরপর থেকেই গৌতম নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিমলের বাড়ির পাশে একটি মোটরবাইক পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পুলিশে খবর দেওয়া হলে বাড়ির কলপাড় খুঁড়ে গৌতমের দেহ উদ্ধার হয়।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, গৌতমকে খুন করে তার দেহ গোপন করতে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়। গৌতমের দাদা দেহটি শনাক্ত করেছেন। গৌতমের বাবা দীপেন রায়ের দাবি, “পরিমল আমার ছেলেকে খুন করে পালিয়েছে।”

পরিমলের মা জেরায় পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, ছেলে একজনকে খুন করেছে এবং সেই কারণেই সে ও তার স্ত্রী পালিয়ে গেছে। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসল কারণ—পরকীয়া না কি অন্য কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন—তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর