মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিল ইরান। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন তাঁর পুত্র সইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেই। রবিবার গভীর রাতে তেহরান থেকে এই ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিল ইরান—আমেরিকা ও ইজরায়েলের চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করতে তারা প্রস্তুত নয়।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। সেই নিয়ম মেনেই মোজতবাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই পদে বসার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের সর্বময় ক্ষমতা তাঁর হাতে চলে গেল। রাষ্ট্রনীতি, সামরিক সিদ্ধান্ত কিংবা ধর্মীয় নির্দেশ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর মতামতই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে, ঠিক যেমনটি ছিল তাঁর পিতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ক্ষেত্রে।


সরকারি বিবৃতিতে তেহরান জানায়, “নির্ণায়ক ভোটের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ আয়াতোল্লা সইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেইকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পবিত্র আইনি ব্যবস্থার তৃতীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।”
এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমেরিকার মতামত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। তাঁর দাবি ছিল, হোয়াইট হাউসের সমর্থন পাওয়া কোনও নেতাই ইরানের উন্নয়নের পথে কাজ করতে পারবেন।
অন্যদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আলি খামেনেইয়ের উত্তরসূরি নির্বাচনকারী ব্যক্তিরাও একই পরিণতির মুখে পড়তে পারেন। কিন্তু এই সমস্ত মন্তব্য বা হুমকিকে কার্যত উপেক্ষা করেই নতুন নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল তেহরান।


উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তেহরান-সহ ইরানের একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং সেই হামলায় নিহত হন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।
তার পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ও ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া এবং তুরস্কের আকাশপথ ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধের জেরে ইতিমধ্যেই ইরানে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন ও ভারত-সহ একাধিক দেশ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই সংঘাত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।







