মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত যখন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই নতুন রহস্য ঘনীভূত হয়েছে ইরানের রাজনীতিতে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না Mojtaba Khamenei-কে। আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে—তিনি কি সত্যিই ‘নিখোঁজ’? এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরান ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের আবহে আহত হয়েছেন মোজতবা খামেনেই। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং তাঁর ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি আঘাত পেয়েছেন। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি নিরাপদে রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।


তবে তিনি কোথায় আহত হয়েছেন বা কীভাবে হামলার শিকার হয়েছেন, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পরও এখনও পর্যন্ত তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে কোনও প্রকাশ্য ভাষণ দেননি, যা ঘিরেই রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৬ বছর। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ৩৭ বছর ধরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে ছিলেন এবং দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে পরিচিত।
খামেনেইর মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছিল, কে হবেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা। অবশেষে তাঁরই ছেলে মোজতবা খামেনেইকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরে ইরানে মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় নেতা বা আলেম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আলি খামেনেইর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। যদিও তাঁর কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদ ছিল না।
১৯৮৭ সালে তিনি Islamic Revolutionary Guard Corps-এ যোগ দেন। পরে ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময়ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আলি খামেনেইকে পরামর্শ দিতেন বলে জানা যায়।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, খামেনেই যে তিন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম আগে থেকে নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন, সেখানে মোজতবার নাম ছিল না। ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা হতে গেলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি।
সেই দিক থেকে মোজতবা খামেনেই তুলনামূলকভাবে পিছিয়েই ছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক স্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম বলেই তাঁকে এই পদে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে ইরানের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দাবি।









