মৃত্যু ও গুরুতর অসুস্থতার জল্পনার মধ্যেই আবারও সামনে এল বার্তা। ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই গোপন ডেরা থেকে লিখিত বিবৃতিতে জানালেন তিনি জীবিত—এবং একই সঙ্গে তুলে ধরলেন নতুন কূটনৈতিক বার্তা। তাঁর এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।
রবিবার প্রকাশিত বার্তায় মোজতবা ইরাকের জনগণ ও নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চলা সংঘাতে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইরাকের সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এই সহমর্মিতা তেহরানকে শক্তি জুগিয়েছে এবং ইরান কৃতজ্ঞ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক বার্তায় তিনি সরাসরি আমেরিকা বা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাও কৌশলগত হতে পারে—কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর। এরপরই তাঁর পুত্র মোজতবাকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি জনসমক্ষে আসেননি, বরং গোপন ঘাঁটি থেকেই বার্তা দিয়ে চলেছেন।
এই পরিস্থিতিতেই তাঁর মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক মহলে। কুয়েতি সংবাদমাধ্যম Al-Jarida-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোজতবা আহত এবং বর্তমানে রাশিয়া-তে চিকিৎসাধীন। এমনকি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নাকি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন এবং তাঁকে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে এই দাবিকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা খণ্ডন করেনি রাশিয়া। ফলে মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, গোপন আস্তানা থেকে দেওয়া এই নতুন বার্তা শুধু তাঁর জীবিত থাকার ইঙ্গিতই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনীতিতে ইরানের অবস্থানও নতুন করে স্পষ্ট করছে।







