মোহনবাগান রত্ন টুটু বোস, সবুজ-মেরুনের জীবন্ত কিংবদন্তি

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মোহনবাগান রত্ন সম্মান হাতে আবেগে ভেসে গেলেন টুটু বোস। ক্লাবের প্রতি তাঁর ভালোবাসাই তাঁকে বানিয়েছে 'সবুজ-মেরুনের গডফাদার'।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফুটবল দুনিয়ায় একটা কথা প্রচলিত—“ক্লাবের চেয়ে কেউ বড় নয়”। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়ে ওঠেন। এমনই একজন মানুষ স্বপনসাধন বোস, যাঁকে ময়দান চেনে ‘টুটু বোস’ নামে। এবারে মোহনবাগান ক্লাব তাঁকে দিল ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মান। সম্মান পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেললেন সবুজ-মেরুনের এই জীবন্ত কিংবদন্তি।

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ছিল মোহনবাগান দিবসের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। সেখানেই টুটু বোসের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘মোহনবাগান রত্ন’। মুহূর্তেই গোটা মঞ্চে আবেগের জোয়ার। হাততালির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বাইচুং ভুটিয়া, আইএম বিজয়ন, জোসে ব্যারেটো সহ অনেকেই ভিডিওবার্তায় জানান, “টুটু বোস ইজ দ্য গডফাদার অব মোহনবাগান“।

‘হাতে চাঁদ পেয়েছি’, বলেই কেঁদে ফেললেন টুটু বোস

সম্মান পেয়ে টুটুবাবুর চোখে জল। বললেন, “ছোটবেলায় শুনতাম, কেউ ফার্স্ট হলে বলত, হাতে চাঁদ পেয়েছিস? আজ মনে হচ্ছে, সত্যিই হাতে চাঁদ পেলাম।” ৮০ বছর ছুঁই ছুঁই মানুষটির আবেগ দেখে উপস্থিত দর্শকেরাও আপ্লুত।

ইতিহাসে ‘টুটুদা’-র নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে

টুটু বোস শুধুই একজন ক্লাব কর্তা নন, তিনি এক দূরদর্শী সংগঠক। তাঁর আমলেই চালু হয় মোহনবাগানের গণতান্ত্রিক ভোটব্যবস্থা। সাধারণ নির্বাচন পদ্ধতির মতো ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত তিনিই প্রথম বাস্তবায়িত করেন। আদালত চত্বরে হওয়া সেই নির্বাচনেই তিনি সচিব নির্বাচিত হন। সেই টুটুদাই প্রথম সিদ্ধান্ত নেন, বিদেশি খেলোয়াড় চাই মোহনবাগানে। তাঁর হাত ধরেই চিমা ওকোরির আগমন, যেটা ছিল একেবারেই প্রথাভাঙা সিদ্ধান্ত। ২০২০ সালে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে মোহনবাগানের গাঁটছড়া বাঁধার মূল কারিগরও তিনিই।

মোহনবাগানের দ্বিমুকুট জয়ের নেপথ্য কারিগর

গত মরশুমে মোহনবাগান জিতেছে দুই মুকুট—আইএসএল এবং ডুরান্ড কাপ। এই সাফল্যের নেপথ্যেও টুটুবাবুর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর কথায়, “মোহনবাগান যা কিছুতে হাত দেয়, তা-ই সোনা হয়ে যায়।

ক্লাবপ্রেমে চার লক্ষ টাকার অনুদান

এ বছর ১৯ জনকে আজীবনের সদস্যপদ দিয়েছে ক্লাব। কিন্তু টুটু বোস চান সংখ্যাটা হোক ২০। তিনি বলেন, “আরও ৪ লক্ষ টাকা দিচ্ছি, ২০তম আজীবন সদস্য যেন পরজন্মে টুটু বোস হয়।” এই কথাতেই ফুটে ওঠে তাঁর ক্লাবপ্রেমের গভীরতা।

‘আমার নাম যেন মুছে না যায়’

টুটু বোস ক্লাব ক্যান্টিন তৈরির স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, “এই ক্যান্টিন আমি ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে করে দিয়েছিলাম। মৃত্যুর পরে দয়া করে ক্যান্টিনের নাম যেন আমার নামে হয়। আমার নাম যেন মুছে না যায়।” তার জবাবে একটাই কথা—টুটুবাবু, আপনি চিরকাল সবুজ-মেরুন হৃদয়ে অমর থাকবেন।

মোহনবাগান মানেই টুটু বোস

স্টেডিয়াম যখন ‘জয় মোহনবাগান’ ধ্বনিতে মুখর, তখন টুটু বোসের মুখে শুধুই একটাই পরিচয়—“আমি মোহনবাগানি।” আর সেই পরিচয়ই তাঁকে বানিয়েছে মোহনবাগানের ‘রত্ন’, একজন কিংবদন্তি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন