ডুরান্ড কাপে বিএসএফকে ৪-০ গোলে হারিয়ে লিস্টন ম্যাজিকে মোহনবাগানের জয়

মহামেডানের পর বিএসএফকেও বিধ্বস্ত করল মোহনবাগান। ডুরান্ড কাপে টানা দ্বিতীয় জয়। লিস্টনের জোড়া গোল ও মনবীর-সাহালের অবদান দলকে এনে দিল বড় জয়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ডুরান্ড কাপে মোহনবাগানের জয়রথ চলছেই। প্রথম ম্যাচে মহামেডান স্পোর্টিংকে হারানোর পর এবার বিএসএফের বিরুদ্ধেও দাপুটে জয় তুলে নিল সবুজ-মেরুন শিবির। সোমবার কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে লিস্টন কোলাসোর দুরন্ত পারফরম্যান্সে ৪-০ গোলে জিতল মোহনবাগান। এই ম্যাচে লিস্টন ছাড়াও গোল করলেন মনবীর সিং ও সাহাল আবদুল সামাদ।

প্রথম ম্যাচে সহকারী কোচ ডাগআউটে থাকলেও এদিন ছিলেন হেড কোচ জোসে মোলিনা। কোচ বদলালেও বদলায়নি খেলার ধরন। মাঠজুড়ে আধিপত্য দেখিয়ে গিয়েছে মোহনবাগান। শুরুতেই বিদেশি ডিফেন্ডার টম অলড্রেড ও দীপেন্দু বিশ্বাসকে খেলানো হয়। শুরুর দিকে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব দেখা গেলেও সময় গড়াতেই ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় তারা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে একাধিকবার বিএসএফ ফরোয়ার্ড কিশোরী মোহনবাগান বক্সে ঢুকলেও সেভাবে বিপদ হয়নি। মাঝমাঠে অনিরুদ্ধ থাপা ও দীপক টাংরি ভুল কমাতেই আক্রমণের গতি বাড়ে। উইং থেকে টানা চাপ সৃষ্টি করেন মনবীর ও লিস্টন। তাদের সঙ্গে সমান তালে সাহায্য করেন তরুণ রোশান। ২৪ মিনিটে তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করেন মনবীর। একাধিক সেভ করলেও এবার ভুল করে বসেন বিএসএফ গোলকিপার। ফলে প্রথমার্ধেই ১-০ এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় আসল কোলাসো ঝড়। ৫৩ মিনিটে বাঁদিক থেকে দুরন্ত ড্রিবল করে ঢুকে পড়েন বক্সে। সাহালের পাস পেয়ে ফের দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন। পরের গোলটা আসে ৫৮ মিনিটে, ফের তাঁর একক প্রচেষ্টায়। স্টেপওভারে বিভ্রান্ত করে গোলকিপারের হাতের তলা দিয়ে বল পাঠান জালে। ডুরান্ড কাপে এই নিয়ে পরপর দুই ম্যাচে ডাবল গোল করলেন লিস্টন কোলাসো।

৬০ মিনিটে সাহালও নাম লেখান স্কোরশিটে। তাঁর শট বিএসএফ ডিফেন্ডার হেড দিয়ে ক্লিয়ার করলেও বল তখনই গোললাইন পেরিয়ে গিয়েছিল। ফলে রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত দেন। এই গোলেই ৪-০ তে এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে মোহনবাগান। তবে গোলপার্থক্যে ডায়মন্ড হারবার এখনও কিছুটা এগিয়ে। ফলে শেষ ম্যাচে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়েই ঠিক হবে গ্রুপ শীর্ষস্থানের ভাগ্য। যদিও দ্বিতীয় স্থান থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকছে, কিন্তু গতবারের দ্বিমুকুট জয়ী দল হিসেবে মোহনবাগান নিশ্চয়ই সেই পথে হাঁটতে চাইবে না।

ডুরান্ড কাপে মোহনবাগান যত এগোচ্ছে, তত স্পষ্ট হচ্ছে দলের আক্রমণভাগ ও মধ্যমাঠের সাযুজ্য। টম অলড্রেডের অভিজ্ঞতা ও রোশানের গতি মিলিয়ে রক্ষণেও জোর বাড়ছে। এই ছন্দ বজায় থাকলে ডুরান্ড কাপে আবারও শিরোপা ধরে রাখতে পারে সবুজ-মেরুন শিবির। এবং সেই পথে লিস্টন কোলাসো নিঃসন্দেহে হয়ে উঠছেন দলের প্রধান অস্ত্র।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন