ডুরান্ড কাপ ফাইনালের ৪-১ হারের জবাব আইএফএ শিল্ডের ফাইনালেই দিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। কলকাতা ডার্বির ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হল সবুজ-মেরুন। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন সামির জেলকোভিচ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাঁর সেই গোলই শেষ পর্যন্ত দুই দলের ভাগ্য গড়ে দেয়।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ইস্টবেঙ্গলই বেশি সক্রিয় ছিল। বাঁ দিক দিয়ে বার বার আক্রমণে উঠছিল লাল-হলুদ। ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের সহজতম সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। একা মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে পেয়েও বল জালে রাখতে পারেননি তিনি। সেই সুযোগ নষ্টের পর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে মোহনবাগান।
১৮ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে একাই ইস্টবেঙ্গলের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ছাংতে। তবে সতীর্থকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। লাল-হলুদ রক্ষণ সেই আক্রমণ আটকে দেয়। এর কিছু পরেই আরও বড় সুযোগ আসে মোহনবাগানের সামনে।
২৩ মিনিটে অভিষেকের ক্রস থেকে ফাঁকায় হেড করেছিলেন মেহতাব। তাঁকে মার্ক করেননি ইস্টবেঙ্গলের কোনও ফুটবলার। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এর পর মোহনবাগানের আক্রমণ আরও বাড়ে। ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন ছাংতে। ফিস্ট করে তা বাইরে পাঠান ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক লাচেনপা। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া পরের আক্রমণেও বিপদ কাটাতে হয় লাল-হলুদকে। সাহালের শটও আটকে দেন লাচেনপা।
অবশেষে ৪৫ মিনিটে গোল। জেলকোভিচের পা থেকেই আক্রমণের সূত্রপাত। তাঁর পাস যায় আরউইনের কাছে। আরউইন বল দেন সাহালকে। বাঁ দিক থেকে সাহালের ভাসানো ক্রস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে জালে পাঠান জেলকোভিচ। তাঁকে মার্কিংয়ে রাখতে পারেনি ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ। ১-০ এগিয়ে যায় মোহনবাগান।
বিরতির পর গোল শোধের চেষ্টা করেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু আক্রমণে সেই ধার আর দেখা যায়নি। ৫৪ মিনিটে দ্রাজিচ ও মান্ডির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দু’দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। কিছুক্ষণ খেলা থামিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হয়।
৫৮ মিনিটে পিভি বিষ্ণু এবং আকে লোবাকে মাঠে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাস। কিন্তু বদল করেও আক্রমণের গতি বাড়াতে পারেনি লাল-হলুদ। বরং মোহনবাগান নিজেদের এক গোলের সুবিধা ধরে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
৬৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল সমতা ফেরানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ পায়। ডান দিক থেকে নুঙ্গার ক্রসে জিয়োলিনস্কির হেড সোজা গোলের দিকে যাচ্ছিল। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে সেই বল আটকে দেন বিশাল কাইথ। তাঁর সেই সেভে বেঁচে যায় মোহনবাগান। পরের মুহূর্তে ছাংতের শটও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।
৭৫ মিনিটের পর ম্যাচের গতি আরও কমে যায়। দুই দলের খেলাতেই ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। ইস্টবেঙ্গল গোলের জন্য মরিয়া হলেও ধারাবাহিক ভাবে কোনও পরিষ্কার আক্রমণ তৈরি করতে পারছিল না। লোবা বল পেলেও বার বার প্রতিপক্ষের চাপে পড়েছেন। রশিদের ফ্রিকিকও কাজে আসেনি।
শেষ দিকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই ইস্টবেঙ্গলের চাপ বেড়েছে। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারেনি লাল-হলুদ। দ্বিতীয়ার্ধে জিয়োলিনস্কির হেড ছাড়া বড় কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। বিশালের সেভের পর মোহনবাগানের রক্ষণও শেষ পর্যন্ত নিজেদের জায়গা ধরে রাখে।
শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসব শুরু হয় সবুজ-মেরুন শিবিরে। ১-০ ব্যবধানে ডার্বি জিতে আইএফএ শিল্ডের ট্রফি হাতে তুলে নেয় মোহনবাগান। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-৪ হারের পর এই জয় নিঃসন্দেহে সবুজ-মেরুনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যের।
এই জয়ের নায়ক এক গোলের জেলকোভিচ। আর ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জিয়োলিনস্কির হেড আটকে দিয়ে জয়ের ভিত শক্ত করেন বিশাল কাইথ। অন্য দিকে ডুরান্ড কাপের পর ফের ডার্বি ফাইনালে নামা ইস্টবেঙ্গল এ বার আর ট্রফি ঘরে তুলতে পারল না।
মোহনবাগান ১-০ ইস্টবেঙ্গল
গোল: সামির জেলকোভিচ (৪৫’)



