মহমেডানের সভাপতি পদে হুমায়ুন কবীর, ময়দানে এবার জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা

আমিরুদ্দিন ববির পদত্যাগের পর মহমেডান স্পোর্টিংয়ের নতুন সভাপতি হলেন হুমায়ুন কবীর। ১৩ কোটি টাকার দেনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই এখন ক্লাবের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সাক্ষী হল মহমেডান স্পোর্টিং। ক্লাবের সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন আমিরুদ্দিন ববি। তাঁর জায়গায় নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। শনিবার ক্লাবে নতুন সভাপতিকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানো হবে। আর্থিক সঙ্কট ও সাংগঠনিক অস্থিরতার আবহে এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সদস্য-সমর্থকেরা।

ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, সভাপতি পদে পরিবর্তন হলেও আপাতত বাকি সমস্ত কমিটি আগের মতোই বহাল থাকবে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে ক্লাবের প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না, তা আগামী এক মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত কয়েক বছর ধরেই আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মহমেডান। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি আমিরুদ্দিন ববির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছিল সদস্য ও সমর্থকদের একাংশের মধ্যে। তাঁকে দায়িত্ব ছাড়ার দাবি বারবার উঠেছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই চাপ আরও বৃদ্ধি পায় বলে ক্লাব মহলের দাবি।

আর্থিক দুরবস্থা কাটাতে এর আগে বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হয়েছিল ক্লাব। নতুন স্পনসর খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং হুমায়ুন কবীর— দুই রাজনৈতিক নেতার কাছেই সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছিল। তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠানো হয়।

বর্তমানে মহমেডানের উপর প্রায় ১৩ কোটি টাকার দেনার বোঝা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি আগামী মরসুমের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দল গঠনের জন্যও প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু অর্থাভাবের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কয়েক মাস আগে নওশাদ সিদ্দিকি দাবি করেছিলেন, কলকাতার অন্য দুই প্রধান ক্লাবের তুলনায় মহমেডান প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়নি। তিনি স্পনসর আনার ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। একইভাবে হুমায়ুন কবীরও ক্লাবের আর্থিক অচলাবস্থা দূর করতে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মাঠের পারফরম্যান্সও গত মরসুমে হতাশ করেছে সমর্থকদের। ইতিহাসে প্রথমবার আইএসএলে খেলার সুযোগ পেলেও, নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক সমস্যার কারণে শক্তিশালী দল গঠন করা সম্ভব হয়নি। ট্রান্সফার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং প্রস্তুতির ঘাটতির প্রভাব পড়ে পারফরম্যান্সে। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থেকে আইএসএল থেকে অবনমনের মুখে পড়তে হয় মহমেডানকে।

নতুন সভাপতি হিসেবে হুমায়ুন কবীরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ক্লাবের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী রূপরেখা তৈরি করা। সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি কতটা সফল হন, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে মহমেডানের আগামী দিনের পথচলা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন