কাশ্মীরের বুকে জঙ্গি হামলার ছায়া সরিয়ে এবার উন্নয়নের রেলপথ। ৬ জুন, জম্মু-কাশ্মীরে উদ্বোধন হল বিশ্বের উচ্চতম রেলসেতু চেনাব রেল ব্রিজ। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যিনি এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করলেন এবং উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে একে তুলে ধরলেন।
চেনাব নদীর উপরে নির্মিত এই ব্রিজের উচ্চতা ৩৫৯ মিটার, যা আইফেল টাওয়ারের থেকেও বেশি। এটি একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত বিস্ময়, তেমনই কাশ্মীরকে মূল ভারতের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার এক বড় পদক্ষেপ।


চেনাব ব্রিজের বৈশিষ্ট্য ও তথ্য:
উচ্চতা: ৩৫৯ মিটার
দৈর্ঘ্য: ২৭২ কিমি উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেলপথ


খরচ: ₹১৪৮৬ কোটি
আয়ু: ১২০ বছর
বিশেষত্ব: কেবল দ্বারা যুক্ত ভারতের প্রথম রেল ব্রিজ
উদ্ভবকাল: পরিকল্পনা শুরু ১৯৯৪ সালে, কাজ শুরু ২০০২-এ
এই প্রকল্পের মাধ্যমে কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে ভারতের বাকি অংশের যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে। শুধু তাই নয়, পর্যটন, বাণিজ্য ও সামগ্রিক উন্নয়নের দিক থেকে এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
নতুন ট্রেন পরিষেবা: বন্দে ভারত এক্সপ্রেস
উদ্বোধনের দিন চেনাব ব্রিজ থেকে কাটরা পর্যন্ত যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। কাটরায় পৌঁছে তিনি বারামুল্লা-কাটরা রুটে দুটি নতুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন। এই ট্রেনগুলি ৭ জুন থেকে যাত্রীদের জন্য চালু হবে এবং সপ্তাহে ৬ দিন চলবে।
টানেল ও ব্রিজের বিস্ময়কর নেটওয়ার্ক:
টি-৫০ টানেল: ১২.৭৭ কিমি, ভারতের দীর্ঘতম রেল টানেলসুড়ঙ্গ পথ: কাটরা-বানিহাল সেকশনের মধ্যে ১১১ কিমির মধ্যে ৯৭.৪ কিমি টানেল
ব্রিজ সংখ্যা: ৪৯টি (চেনাব ও আনজি সহ)
এই প্রকল্পের মোট আনুমানিক ব্যয় ₹৪৩,৭৮০ কোটি, যা ভারতের অন্যতম বৃহৎ পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
ঐতিহাসিক পটভূমি:
১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমহা রাও প্রকল্প অনুমোদন দেন
কাজ শুরু হয় ২০০২ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে
২০২৪ সালে পূর্ণতা পেল ভারতের গর্ব এই চেনাব ব্রিজ








