বিহারকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দিতে অস্বীকার করলো মোদি সরকার। ফলে এনডিএ-র শরিক দল হয়েও লাভের ফসল খুব একটা ঘরে তুলতে পারল না জেডিইউয়ের সুপ্রিমো নীতিশ কুমার। মোদি সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে সমস্ত শর্তে অতীতে একাধিক রাজ্য বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা পেয়েছে সেই শর্ত পূরণ না করলে বিহার কে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া সম্ভব নয়।

দীর্ঘদিন ধরেই বিহারকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া দাবি জানিয়ে সোচ্চার হচ্ছিল জেডিইউ নেতা নীতিশ কুমার। এদিন সংসদে জেডিইউয়ের সাংসদ রামপ্রীত মণ্ডল অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের কাছে জানতে চান, বিহারকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা কেন্দ্রের আছে কিনা। উত্তরে নির্মলা সীতারমন জানান, “বিহারকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া সম্ভব নয়।”


এ প্রসঙ্গে তাঁর যুক্তি, এর আগে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল যে শর্তের ভিত্তিতে একাধিক রাজ্যকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দিয়েছে সেগুলি হল, ১। পাহাড়ি এলাকা বা কঠিন ভৌগলিক অবস্থান। ২। কম জনঘনত্ব, আদিবাসী বহুল রাজ্য, ৩। সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত অবস্থান, ৪। আর্থিক এবং পরিকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে পড়া। ৫। রাজ্যের কোষাগারের বেহাল অবস্থা। কিন্তু উক্ত শর্ত গুলির কোনোটিতেই বিহার আসছে না। ফলে এর আগেও ২০১২ সালে এই মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত খারিজ হয়ে যায়।

এদিকে বিশেষ মর্যাদা না দেওয়ায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে কটাক্ষ করতে শুরু করে দিয়েছে লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল। ইতিমধ্যেই আরজেডি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথম থেকেই বিশেষ মর্যাদা নিয়ে নাটক করছে জেডিইউ দলের নেতারা। ফলে বিহারকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দিতে অস্বীকার করায় রাজনৈতিক বিপাকে পড়েছে নীতিশ কুমার ও তার দল।
বিহারকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দিতে অস্বীকার, নীতিশকে সাফ জানালেন মোদি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মোদি সরকারের তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার চাবিকাঠি ছিল এই এনডিএ-র শরিক নেতার কাছে। কিন্তু মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর বিজেপি কোথাও এনডিএ জোটের সঙ্গে সম্পর্ক চলে যায় কিনা নীতিশের দলের, এখন সেটাই দেখার। উল্লেখ্য, এর আগেও বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার দাবি করেছিল এনডিএর আরেক মূল শরিক তেলেগু দেশম পার্টির নেতা তথা অন্ধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।









