যুদ্ধের আগুন আরও ছড়াচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরান-এর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল তেল আভিভ, আহত বহু মানুষ। একইসঙ্গে সৌদি আরবে মার্কিন সেনা শিবিরে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল। যুদ্ধ, কূটনীতি আর পাল্টা হামলার মাঝে গোটা অঞ্চল জুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
শুক্রবার গভীর রাতে ইরান থেকে ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ইজরায়েল-এর তেল আভিভে। এই হামলায় অন্তত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি পরিষেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম। আহতদের বয়স ৫০ ও ৬৫ বছর—তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার সময় জেরুজালেম-সহ একাধিক শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস-এ হামলার খবর সামনে আসে। এই ঘটনায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা জখম হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। এতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন রাজনীতিতেও জোর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানকে “ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে” এবং তেহরান যুদ্ধ থামাতে আলোচনার পথে এগোচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার সময়সীমা আপাতত ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ইজরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের আরাক হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্স এবং ইয়াজদ প্রদেশের আর্দাকান ইয়েলোকেক উৎপাদন কেন্দ্র-এ নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে।
তবে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা দাবি করেছে, এই হামলায় কোনও প্রাণহানি হয়নি এবং তেজস্ক্রিয় দূষণের আশঙ্কাও নেই।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে, তবে উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়।







