কলকাতায় লিওনেল মেসির দ্বিতীয় সফর স্মরণীয় হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা রূপ নিল বিশৃঙ্খলায় ভরা এক অভিজ্ঞতায়। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা চরমে ওঠে, যার জেরে নির্ধারিত কর্মসূচির অনেকটাই ভেস্তে যায়।
সকাল ১১টা ৩০ নাগাদ লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডি’পলকে সঙ্গে নিয়ে যুবভারতীতে প্রবেশ করেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা। মাঠে ঢুকতেই মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও অতিথিদের অতিরিক্ত ভিড়ে কার্যত ঘিরে ধরা হয় তাঁকে। নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও গ্যালারি থেকে মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।


মাঠে থাকা প্রায় ১৬–১৭ মিনিটের মধ্যে মেসি গ্যালারির উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান, তাঁকে মোহনবাগানের ‘অমর একাদশ’-এর জার্সি উপহার দেওয়া হয়। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস ও সভাপতি দেবাশিস দত্ত তখন মাঠে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

এর মধ্যেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বেলা ১২টার পর মেসিকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে গ্যালারিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একাংশ দর্শক দর্শকাসন ভাঙচুর করেন, বোতল ছোড়েন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে নামার ঘটনাও ঘটে।


চরম বিশৃঙ্খলার জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুবভারতীতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন এবং মাঝপথ থেকেই ফিরে যান। একই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে কলকাতায় উপস্থিত শাহরুখ খানের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়।

বেলা ১২টা ১৫ নাগাদ সব কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে যুবভারতী ত্যাগ করেন লিওনেল মেসি। পরে আরও কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে সেগুলি বাতিল হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার উপস্থিতি ঘিরে যে উৎসবের আবহ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় হতাশা ও বিশৃঙ্খলায়—যার দায় আয়োজনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।








