শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা গিয়েছে, তা আর শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কলকাতার এই ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। আমেরিকা, ব্রিটেন থেকে শুরু করে ইউরোপের সংবাদপত্র ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নিয়েছে যুবভারতীর অস্বস্তিকর দৃশ্য।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ লিয়োনেল মেসি। ফলে তাঁর ভারত সফরের শুরুতেই এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি, গার্ডিয়ান-সহ স্পেন ও ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমেও কলকাতার ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে।
আমেরিকার প্রভাবশালী দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে— “অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলার পর লিয়োনেল মেসির ভারত সফরের আয়োজক আটক”। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুষ্ঠানে মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখাই যায়নি। এক ঘণ্টার বেশি মাঠে থাকার কথা থাকলেও, নিরাপত্তাজনিত কারণে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়।
সংবাদপত্রটি আরও লিখেছে, মাঠের ভিতরে প্রশাসনিক তৎপরতা ও বিশৃঙ্খলার জেরে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সেই পরিস্থিতিতেই চেয়ার ছোড়া ও অশান্তির সূত্রপাত হয়। প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বক্তব্যের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস কলকাতার ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেছে। তাদের ভাষায়, “ফুটবলের প্রতি আবেগ প্রবল হলেও, ভারতে ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা”—এই বাস্তবতার মাঝেই মেসিকে ঘিরে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
এদিকে ব্রিটেনের বিবিসি শিরোনাম করেছে— “লিয়োনেল মেসির ভারত সফর শুরু হল বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে”। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিক ও কর্মকর্তাদের ঘিরে ধরার কারণে মেসি বিরক্ত হয়ে পড়েন। মাত্র ২২ মিনিট মাঠে থাকার পর নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই দর্শকদের একাংশ উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
বিবিসি আরও জানিয়েছে, বহু দর্শক ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিট কেটে এসেছিলেন মেসিকে একঝলক দেখার আশায়। কিন্তু গ্যালারির বড় অংশ থেকেই তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি, যা ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, যুবভারতীর এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কলকাতার ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজনের মান—সবকিছুই এখন বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে।



