নজরবন্দি ব্যুরোঃ বৃহস্পতিবার রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্র আকার নেয় হাওড়ার শিবপুর এলাকা। রণক্ষেত্র পরিস্থিতির জন্য বিজেপিকেই দুষেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি দোষিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে গোটা ঘটনায় পুলিশের ব্যর্থতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এবার সাংবাদিক বৈঠক করে মমতাকেই দুষলেন সিপি(আই)এমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুলিশমন্ত্রী হয়ে পুলিশ কর্মীদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। আসলে মুখ্যমন্ত্রী সেফ খেলছেন।
একইসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বর্ষীয়ান বাম নেতা। তাঁর প্রশ্ন, ওখানে গন্ডগোলের আবহ থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী রামনবমীর দু’দিন আগে থেকে নবান্ন ছেড়ে গঙ্গার উল্টো পাড়ে এসে বসেছিলেন। আসলে মুখ্যমন্ত্রী সেফ খেলতে চাইছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন নিজের দলের নেতা, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না? তাঁরাই তো দুবরাজুপুর থেকে উত্তর ২৪ পরগনা, ইসলামপুরে বিএইচপি, আরএসএসের সঙ্গে মিলেমিশে এই উন্মাদনা ছড়িয়েছেন।

সেলিম আরও বলেন, বাংলায় ১২ মাস ধএই উৎসব হয়। তার মধ্যে এখন নয়া সংযোজন রামনবমীর মিছিলও। যেটা ধেয়ে যায় মসজিদ এবং মাজারের দিকে। দেশের সর্বত্র সঙ্ঘ পরিবার ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির নামে পরিকল্পনামাফিক এটা করা হচ্ছে। সেই পরিকল্পনায় এখানে তৃণমূলও মিশে গিয়েছিল। আসলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে মেরুকরণের রাজনীতি শুরু হয়েছে।

গতকালের ঘতনার পর বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ধর্ম কখনও অশান্তিকে প্রশয় দেয় না। ধর্ম শান্তির কথা বলে, মানবিকতার কথা বলে। যে ঘটনা ঘটেছে এটায় বিজেপি প্ল্যান ছিল। বিজেপি একাধিক সংগঠন রয়েছে, এদের প্ল্যান ছিল যেমন করে হোক দাঙ্গা লাগানো। বিজেপি গতকাল দেশের প্রায় ১০০ টি জায়গায় এভাবে দাঙ্গা লাগিয়েছে। হাওড়ার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, আমি এটা বারবার বলে দিয়েছিলাম, ওই রুটে যাতে মিছিলও না ঢোকে বারবার বলে দিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও বেশ কিছু ক্রিমিনালরা বন্দুক, বুলডোজার নিয়ে গিয়ে হামলা করেছে। যেমস্ত জায়গায় সংখ্যালঘুদের বাস সেখানেই হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশমন্ত্রী হয়ে পুলিশ কর্মীদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন, মমতাকে আক্রমণ সেলিমের

পাশাপাশি সিপি(আই)এমের রাজ্য সম্পাদক জানিয়েছেন, ২ এপ্রিল, রবিবার সিপি(আই)এমের তরফে শান্তি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। শিবপুরের ঘটনার পর মিছিলের জন্য অনুমতি পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।







