বঙ্কিমচন্দ্র- সূর্য সেনের পর এবার নামবিভ্রাটে মাতঙ্গিনী হাজরা, বিজেপি সাংসদকে আক্রমণে তৃণমূল

বঙ্কিমচন্দ্র থেকে সূর্য সেন—ক্রমাগত নাম ভুলে কটাক্ষের মুখে বিজেপি; এবার দীনেশ শর্মার মুখে বিকৃত হলো মাতঙ্গিনী হাজরার নাম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভায় বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের ধারাবাহিক নামবিভ্রাট নিয়ে আবারও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’, বীর বিপ্লবী সূর্য সেনকে ‘মাস্টার’, এমনকি ‘বন্দে মাতরম’কে ‘বন্দে ভারত’ বলে ফেলায় ইতিমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছে গেরুয়া শিবির। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম।

বৃহস্পতিবার লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা উচ্চারণ করেন—“মাতা গিনি হাজরা”! তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার নাম এমনভাবে ভুল উচ্চারণ করা মাত্রই সংসদজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। বিরোধীদের অভিযোগ, বাংলার ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক-নায়িকাদের সম্পর্কে বিজেপির অজ্ঞতা এ বার আবারও স্পষ্ট হলো।

এ দিন ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর উপলক্ষে সংসদে বিশেষ আলোচনা চলছিল। আলোচনার সূচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন, তা নিয়েই ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তার ওপর বহু বিজেপি নেতা পূর্বেও বাংলা বিপ্লবীদের নাম ভুল করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ফলে দীনেশ শর্মার মন্তব্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র- সূর্য সেনের পর এবার নামবিভ্রাটে মাতঙ্গিনী হাজরা, বিজেপি সাংসদকে আক্রমণে তৃণমূল
মাতঙ্গিনী হাজরা

এ ঘটনায় সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বলা হয়েছে, “মাতঙ্গিনী হাজরার নাম কচুকাটা করেছেন বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা। বাংলার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগহীনতার আরও প্রমাণ এটি। বহিরাগতরা বাংলার শহিদের নামও জানেন না!” তৃণমূলের দাবি, বাংলার বীর কন্যাকে নিয়ে এমন অসাবধানতা বিজেপির রাজনৈতিক উদাসীনতাই তুলে ধরে।

দীনেশ শর্মা উত্তরপ্রদেশ সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বলেও উল্লেখ করে তৃণমূল কটাক্ষ করেছে—“রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলালেও ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা নেই। বাংলার শহিদদের প্রতি এমন অনিহা অসম্মানজনক।”

বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নাম বিকৃতভাবে উচ্চারণ হওয়ায় বাঙালির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, এবং রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর