নজরবন্দি ব্যুরোঃ ফোনে অভিযোগ জানার পর এবার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতেও রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসি-কেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ডিভিসি-র অতিরিক্ত জল ছাড়ায় এবং তাদের জলাধারগুলিতে ড্রেজিং না করানোয় তার ফল ভুগতে হচ্ছে বাংলাকে।
এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ নিতে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করলে তখনও একই অভিযোগ জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে মমতা জানান, নিম্নচাপের কারণে বিগত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে টানা বৃষ্টি হয়ে চলেছে। আর এই সময়ে মাইথন, পাঞ্চেত ও তেনুঘাট জলাধার থেকে প্রায় দু’লাখ কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি, যার জেরেই রাজ্যের হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৬ জনের প্রাণহানি ছাড়াও লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত।

ওপর দিকে এই বিষয়ে রীতিমত ক্ষোভ উগরে দেন সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। তিনি বলেন বারবার বলা সত্ত্বেও রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসি জল ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে রাজ্যের একাধিক জেলা প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন ডিভিসিকে এই বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিন-চারদিন জল ছাড়া বন্ধ রাখুক ডিভিসি। তা সত্ত্বেও আজ ৪০হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন ক্ষুব্ধ মমতা
তিনি জানান আজ মাইথন বাঁধ থেকে কুড়ি হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত্ বাঁধ থেকে কুড়ি হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এই জল যখন দুর্গাপুর ব্যারেজ এসে পৌঁছবে তখন তার পরিমাণ হয়ে যাবে প্রায় ৬৫ হাজার কিউসেক। এর ফলে রাজ্যে প্রত্যেকটি নদীর জল এক ঝটকায় বেড়ে যাবে। বিভিন্ন এলাকা ফের প্লাবিত হবে।



