দিল্লির রাজনীতির কেন্দ্রে দাঁড়িয়েই স্পষ্ট বার্তা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—“আমাকে চ্যালেঞ্জ করলে, আমি সবার থেকে বিপজ্জনক।” দিল্লি পুলিশের ‘অতি সক্রিয়তা’ ও বেআইনি তল্লাশির অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বঙ্গভবনের সামনে অভিযান চালানোর এক্তিয়ার দিল্লি পুলিশের নেই। মানবিকতার খাতিরে বিচার চাইতেই তিনি দিল্লিতে—কোনও বিক্ষোভ দেখাতে নয়—এই দাবিতেই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার অভিযোগ, এসআইআর-র ঘটনায় মৃতদের পরিবার এখন বঙ্গভবনে রয়েছেন, অথচ তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে দিল্লি পুলিশ তল্লাশিতে নেমেছে। “আমার জন্য দিল্লিতে ব্ল্যাক কার্পেট কেন?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পেশিশক্তি দেখিয়ে কোনও লাভ নেই। দেশের কেউ না লড়লেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন—এই হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।


এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি দিল্লিতে প্রতিবাদ করতে আসেননি; সম্মান পেলে সম্মান ফিরিয়ে দিতে জানেন। অভিযোগ করেন, এসআইআর-র কারণে ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, অথচ তাঁদের পরিবারগুলোর দিকে তাকানোর কেউ নেই। “অন্যের কথা শুনে হয়রানি বন্ধ হোক”—এই আহ্বান জানান তিনি।
মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে—তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। “মানবিকতার খাতিরে বিচার চাইতেই এসেছি”—এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি জানান, মানুষের সুরক্ষার দায় নিয়েই দিল্লিতে উপস্থিত তিনি।
মৃতদের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করে তাঁদের ভয় না পাওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও সমস্যা হলে সরাসরি জানানোর কথাও বলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, যখন আতঙ্কে মানুষগুলোর মৃত্যু হচ্ছিল, তখন পাশে দাঁড়ানো হয়নি; এখন তল্লাশি চলছে। দিল্লি পুলিশের আচরণকে ‘দুষ্টাচারী’ ও ‘দুরাচারী’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।










