নজরবন্দি ব্যুরো: এই মুহূর্তে নুসরত জাহানকে নিয়ে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। তাঁর বিরুদ্ধে ২৪ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। পাল্টা তৃণমূলের নায়িকা সাংসদ সাফাই দিয়েছেন যে, তিনি কোনও রকম দুর্নীতিতে যুক্ত নন। আর এবার নুসরত প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে মমতার বক্তব্য, আগে দেখুন অভিযোগটা সত্যি কিনা, অভিযোগ প্রমাণের আগেই মিডিয়া ট্রায়াল করে দিচ্ছেন!
আরও পড়ুন: রাজ্যের ক্যালেন্ডারে বাড়ল ছুটির দিন, বড়ো ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর


বুধবার নবান্ন থেকে নুসরতের বিষয়ে মন্তব্য করতে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বললেন, “নুসরতের মামলা নুসরত বলবে, নুসরত লড়বে। কিন্তু কোনও মালিক যদি কিছু করে, তার জন্য আপনাকে কেন ইডি-সিবিআই ডাকবে? ইডি, সিবিআই যা বলল এক তরফা! নুসরত যদি কোথাও ডিরেক্টর হয়ে থাকে, তাহলে সেরকম ডিরেক্টর তো অনেক আছে অনেক লেভেলে। যারা সরাসরি চিটফান্ডের সঙ্গে যুক্ত, চিটফান্ডের মালিকের সঙ্গে বিদেশে ঘুরতে গিয়েছিল, চিটফান্ডের সব তথ্য থাকা সত্ত্বেও তাদের কেন ডাকা হয় না? একই আইনে একরকম বিরোধীদের জন্য, আর আরেকরকম অন্যদের জন্য, এটা কী করে হয়? বিজেপি নেতারা ২০-২২-২৫ জন করে কেন্দ্রীয় পুলিশ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কত কেন্দ্রীয় পুলিশকে অপব্যবহার করা হচ্ছে!”

নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগটি এনেছেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে নুসরতের বিরুদ্ধে? অভিযোগ, তিনি ২০১৪ সালে ৪২৯ জনের কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা করে নেন। মোট ২৪ কোটি টাকা নাকি তিনি প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি প্রতারিতদের নিয়ে ইডির দফতরে গিয়ে নালিশ জানান শঙ্কু। গড়িয়াহাট রোডে ‘মেসার্স সেভেন সেন্স ইনফাস্ট ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি আছে। সেই কোম্পানির ডিরেক্টর তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। এই সংস্থার মাধ্যমেই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন নুসরত বলে অভিযোগ।

এদিকে আজ সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে জবাব দিয়েছেন নুসরত। তাঁর বয়ানে, “যে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তাদের থেকেই ১ কোটি ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার ২৮৫ টাকার ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকায় বাড়ি কিনেছি। ২০১৭ সালের ৬ মে সুদ-সহ ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত দিয়েছি কোম্পানিকে। ব্যাঙ্কের নথিও আমার কাছে আছে। ৩০০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করতে পারি যে, আমি দুর্নীতিতে যুক্ত নই। আমি এক পয়সা নিলেও এখানে আসতাম না। আদালতের তদন্তাধীন বিষয়, সেইভাবে তদন্ত হোক। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই”।



যদিও নুসরতের এই সাফাই মানতে নারাজ শঙ্কুদেব পণ্ডা। তিনি আগামী দিনে আদালতে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। আর এই প্রথম নুসরতকে নিয়ে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগে দেখুন অভিযোগটা সত্যি কিনা! নুসরতকে সমর্থন মমতার?








