নজরবন্দি ব্যুরোঃ “এখানে সুড়ঙ্গ করে মৃতদেহ লোপাট করে দেওয়া হত”, আন্দোলনের সিঙ্গুরে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী। কাল নন্দীগ্রামে নির্বাচন। যে হাইভোল্টেজ আসনে প্রার্থী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর আগে হুগলীতে একের পর এক কর্মীসভা করলেন তিনি। আজ তিনি সভা করলেন কুখ্যাত সিঙ্গুরেও। সেখান থেকে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিজেপি ছাড়াও বিঁধলেন সিপিএমকেও।
আরও পড়ুনঃ মদন সান্নিধ্যে দোল উৎসব, বিতর্ক নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিজেপি প্রার্থী শ্রাবন্তী।


আজ তিনি বলেন, ” সিপিএমের সময় গোঘাট, আরামবাগ, গড়বেতার কি অবস্থা ছিল আমি জানি। একবার আমি গড়বেতায় মিটিং করতে গিয়েছি। এক বৃদ্ধা আমাকে বললেন, আমাকে একটা বন্দুক দিতে পারো। আমি প্রশ্ন করলাম বন্দুক নিয়ে মা কি করবেন? তিনি বললেন দুই ছেলের হত্যার বদলা নেবেন। এই ছিল সিপিএম। সবাইকে খুন করে ভয়ের পরিবেশ জারি রেখেছিল। গোঘাটে সুড়ঙ্গ করেছিল। এখান দিয়ে প্রচুর মৃতদেহ লোপাট করে দেওয়া হয়। আমি যদি তখন থেকে নিয়মিত এখানে না আসতাম, তাহলে কি হতো ভেবে দেখুন”। বিজেপিকে হারাতে সিপিএমের কাছে ভোট চাওয়া মমতা কৌশলগত ভাবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আক্রমন করছেন সিপিএমকে। কিন্তু এতে তৃণমূলের লাভ হয়নি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যে মমতা প্রবলভাবে সিপিএমের বিরোধিতা করে গিয়েছেন দীর্ঘ সময় ধরে, এখন যদি তিনি একটু নরম ভাবে কথা বলেন বামেদের সম্পর্কে, তাতে অন্য রকম বার্তা যেতে পারে তৃণমূল ভোটারদের কাছে। প্রধানত এই কারণেই মমতা বেশ কয়েকদিন ধরেই বিজেপির পাশাপাশি সিপিএম তথা বামেদের প্রবল আক্রমণ করছেন। বুধবার গোঘাটের সভা থেকেও তিনি বামেদের ব্যাপক আক্রমণ করেছেন।
এদিকে হাওড়ার পাঁচলায় অন্য একটি সভায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মমতা বলেন “নির্বাচন কমিশন যেন বিজেপির মুখপাত্র হয়ে গিয়েছে। বিজেপি যা বলছে তাই করছে। বহিরাগত গুণ্ডারা আসতে পারছে কীভাবে? আগে নিয়ম ছিল, বুথ এজেন্ট স্থানীয় বুথের হতে হবে। কিন্তু বিজেপি যেই দাবি করল ওই নিয়মটা বদলাতে হবে ঠিক তখনই নিয়মটা পাল্টে দেওয়া হয়। এখনও অন্য বুথের লোকও যে কোনও বুথে এজেন্ট হতে পারবে। এইভাবেই বিজেপির কথায় কাজ করছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের উচিত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা। পশ্চিমবঙ্গে এমন ভাবে ভোট হচ্ছে যেন রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।”
“এখানে সুড়ঙ্গ করে মৃতদেহ লোপাট করে দেওয়া হত”, আন্দোলনের সিঙ্গুরে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া হুগলীর গোঘাটা থেকে তিনি সিপিএমের দিকে আক্রমন শানান ও উন্নয়নের কথা বলে মমতা বলেন “বামেদের আমলে গোঘাটে সুড়ঙ্গ ছিল। সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে বামেরা মানুষকে হত্যা করে দেহ পাচার করত। তাই অতীত ভুলে এখন শুধুই উন্নয়নের কাজ করা হয় গোঘাটে। গোঘাটের মানুষের জন্য রেল ব্যবস্থা আমিই তৈরি করেছিলাম। ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হবে গোঘাটে। সেই রাস্তার মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ বঙ্গের সঙ্গে উত্তর বঙ্গ যুক্ত হবে। মেচেদা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাবে সেই রাস্তা। এর পাশাপাশি গোঘাট আর আরামবাগের বন্যা সমস্যা মেটাতে মাস্টার প্ল্যান তৈরিরও প্রতিশ্রুতি দিলেন মমতা ব্যানার্জি। জলস্বপ্ন প্রকল্পে বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। মুণ্ডেশ্বরী নদীর ওপর সেতু তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হবে।” ভোটের আগে বিভিন্ন জেলায় প্রচারে ঝড় তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী।









